ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এশিয়ান কাপে ঐতিহাসিক অভিষেক: বাটলারের চোখে নতুন দিনের স্বপ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১ মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হতে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ার সেরা ১২ দলের এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রমাণ করার এক বিশাল মঞ্চ এটি। এই টুর্নামেন্টের সেরা আটে থাকতে পারলে ২০২৮ সালের অলিম্পিকে খেলার সুযোগ মিলবে, আর শীর্ষ ছয় দল ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট পাবে। এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকেই অনেক বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন জাতীয় নারী দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৯ বছর বয়সী এই ইংলিশ কোচ জানিয়েছেন, এশিয়ান কাপে দারুণ কিছু করার অপেক্ষায় আছেন তিনি।

এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তান। এশিয়ান নারী ফুটবলে চীন ও উত্তর কোরিয়া বরাবরই পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত। তাদের বিপক্ষে মাঠে নেমে চোখে চোখ রেখে লড়াই করাটা নিঃসন্দেহে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর কোচ বাটলার। জয়-পরাজয়ের জটিল সমীকরণে না গিয়ে তিনি মেয়েদের স্বাভাবিক খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিতে চান।

দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার আলোকে বাটলার বলেন, “এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করাটাকেই আমি বিশাল অর্জন হিসেবে দেখছি। আমাদের এটি একটি তরুণ দল, যেখানে প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়ের বয়স ২০ বছরের নিচে। একই সময়ে আমাদের অনূর্ধ্ব-২০ দলও এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটিই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের ফুটবলে সামনে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।” তাৎক্ষণিক জয়ের চেয়ে দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দেন এই কোচ। তার মতে, সিনিয়র ও জুনিয়র দল একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। ঋতুপর্ণা চাকমা, স্বপ্না রানী ও আফঈদা খন্দকারের মতো তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল গড়ে উঠেছে। বাটলার মনে করেন, “এশিয়ান কাপ এই খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের এক অসাধারণ সুযোগ। আমরা টুর্নামেন্ট জেতার আশা করছি না, তবে আমাদের মূল লক্ষ্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করা, যেন বাংলাদেশ বারবার এমন বড় টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই করতে পারে।”

বাংলাদেশ নারী দলের দায়িত্ব নেওয়ার সময় পিটার বাটলার জানিয়েছিলেন, তিনি এমন কিছু পরিবর্তন আনবেন যা হয়তো অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আরও বেশি তরুণ খেলোয়াড়দের মাধ্যমে সিনিয়র দলটিকে ঢেলে সাজিয়েছি। আমি আসার আগে কিছু খেলোয়াড় স্কোয়াডে ছিল, যারা জায়গা পাওয়ার যোগ্য ছিল না। আমার কাজটি সহজ ছিল না, তবে আমি এখানে মানুষকে খুশি করতে আসিনি। মাঝে মাঝে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এবং খেলোয়াড়রা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে।”

আসন্ন এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশকে যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, তা অস্বীকার করেননি বাটলার। তিনি বলেন, “আমরা সুসংগঠিত এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ভালো ফুটবল খেলার চেষ্টা করব। তবে নারী বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করাটা উঁচু পাহাড় বেয়ে ওঠার মতোই কঠিন কাজ।” তিনি আরও যোগ করেন, “চীন, কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই জমিয়ে তোলার দিকেই আমাদের মূল মনোযোগ থাকবে। এটাই আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখনই কোয়ালিফাই করা নয়, বরং সঠিক উপায়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মাঠে একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

এশিয়ান কাপে ঐতিহাসিক অভিষেক: বাটলারের চোখে নতুন দিনের স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০৭:২১:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১ মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হতে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ার সেরা ১২ দলের এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রমাণ করার এক বিশাল মঞ্চ এটি। এই টুর্নামেন্টের সেরা আটে থাকতে পারলে ২০২৮ সালের অলিম্পিকে খেলার সুযোগ মিলবে, আর শীর্ষ ছয় দল ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট পাবে। এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকেই অনেক বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন জাতীয় নারী দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৯ বছর বয়সী এই ইংলিশ কোচ জানিয়েছেন, এশিয়ান কাপে দারুণ কিছু করার অপেক্ষায় আছেন তিনি।

এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তান। এশিয়ান নারী ফুটবলে চীন ও উত্তর কোরিয়া বরাবরই পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত। তাদের বিপক্ষে মাঠে নেমে চোখে চোখ রেখে লড়াই করাটা নিঃসন্দেহে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর কোচ বাটলার। জয়-পরাজয়ের জটিল সমীকরণে না গিয়ে তিনি মেয়েদের স্বাভাবিক খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিতে চান।

দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার আলোকে বাটলার বলেন, “এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করাটাকেই আমি বিশাল অর্জন হিসেবে দেখছি। আমাদের এটি একটি তরুণ দল, যেখানে প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়ের বয়স ২০ বছরের নিচে। একই সময়ে আমাদের অনূর্ধ্ব-২০ দলও এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটিই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের ফুটবলে সামনে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।” তাৎক্ষণিক জয়ের চেয়ে দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দেন এই কোচ। তার মতে, সিনিয়র ও জুনিয়র দল একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। ঋতুপর্ণা চাকমা, স্বপ্না রানী ও আফঈদা খন্দকারের মতো তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল গড়ে উঠেছে। বাটলার মনে করেন, “এশিয়ান কাপ এই খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের এক অসাধারণ সুযোগ। আমরা টুর্নামেন্ট জেতার আশা করছি না, তবে আমাদের মূল লক্ষ্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করা, যেন বাংলাদেশ বারবার এমন বড় টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই করতে পারে।”

বাংলাদেশ নারী দলের দায়িত্ব নেওয়ার সময় পিটার বাটলার জানিয়েছিলেন, তিনি এমন কিছু পরিবর্তন আনবেন যা হয়তো অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আরও বেশি তরুণ খেলোয়াড়দের মাধ্যমে সিনিয়র দলটিকে ঢেলে সাজিয়েছি। আমি আসার আগে কিছু খেলোয়াড় স্কোয়াডে ছিল, যারা জায়গা পাওয়ার যোগ্য ছিল না। আমার কাজটি সহজ ছিল না, তবে আমি এখানে মানুষকে খুশি করতে আসিনি। মাঝে মাঝে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এবং খেলোয়াড়রা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে।”

আসন্ন এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশকে যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, তা অস্বীকার করেননি বাটলার। তিনি বলেন, “আমরা সুসংগঠিত এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ভালো ফুটবল খেলার চেষ্টা করব। তবে নারী বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করাটা উঁচু পাহাড় বেয়ে ওঠার মতোই কঠিন কাজ।” তিনি আরও যোগ করেন, “চীন, কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই জমিয়ে তোলার দিকেই আমাদের মূল মনোযোগ থাকবে। এটাই আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখনই কোয়ালিফাই করা নয়, বরং সঠিক উপায়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মাঠে একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা।”