পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের এক ছোট্ট প্রেসে কাজ করেন মামুন মিয়া। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি এলে তার চোখে জ্বলে ওঠে নতুন স্বপ্ন। এবারও তা-ই হলো। ছোট্ট প্রকাশনী থেকে কয়েকটা বই ছাপলেন। নতুন লেখকদের গল্প, কবিতা। কিন্তু মেলা শুরুর আগেই সব গোলমেলে গেলো। রমজানের ব্যস্ততায়, ঈদের কেনাকাটার হিড়িকে তার বইগুলো পড়ে রইলো অবহেলায়। পাঠক এলেন না। আসবেনই বা কেন? মাথায় তখন কাপড়চোপড়ের হিসাব, সাহরি ইফতারের ঝামেলা। মামুনদের মতো শত শত প্রকাশক আজ একই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। তাদের মনে এখন শুধু একটাই প্রশ্ন। ফেব্রুয়ারির বদলে ঈদের পরে মেলা হলে কী ক্ষতি?
এই দাবির পেছনে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার লড়াই। প্রকাশনা ব্যবসার খাতায় যখন শুধু লোকসানের হিসাব, বইয়ের বাজার যখন একদম টালমাটাল, তখন এসব দাবি আর পাঁচটা দাবির মতো নয়। এ যেন আমাদের সংস্কৃতির, আমাদের অর্থনীতির, আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
প্রকাশকদের এই দাবির পেছনে রয়েছে নিখাদ অর্থনৈতিক বাস্তবতা। যা ফেব্রুয়ারির সময়সূচিকে করে তুলেছে প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশে পাঠকের অভ্যাস নিয়ে আন্তর্জাতিক জরিপের চিত্রটা দেখুন। ১০২টি দেশের মধ্যে আমরা রয়েছি ৯৭তম অবস্থানে।
প্রকাশিত বইয়ের ৯৫ শতাংশের প্রথম ছাপাই হয় মাত্র ৩০০ কপি বা তারও কম। আর সেই বইয়ের ৭০ শতাংশ বিক্রিই হয় না। গত দেড় বছরে বই বিক্রি কমেছে ৬০ শতাংশ। এই সংখ্যাগুলোর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রকাশকদের দৈনন্দিন উদ্বেগ আর লোকসানের নিষ্ঠুর হিসাব। ফেব্রুয়ারিতে রমজান আর ঈদের প্রস্তুতি থাকায় মানুষের পকেট থেকে টাকা বেরোয় জামাকাপড় আর খাওয়া-দাওয়ায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা, যারা আসলে মূল ক্রেতা, তারা ঢাকায় থাকেন না। ফলে মেলা হয়ে যায় পাঠকশূন্য। আর প্রকাশকদের জন্য সেটা মানেই নিশ্চিত ক্ষতি। মামুনদের মতো ছোট প্রকাশকদের জন্য এই সময় স্টল নেওয়া মানে প্রায় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কারণ তাদের লাভের একমাত্র ভরসা পাঠকদের উপস্থিতি।
এই সংকটের আরেকটি দিক আছে। লজিস্টিক আর মানবিক সমস্যা। নির্বাচনের সময় ছাপাখানা আর বাঁধাইয়ের শ্রমিক পাওয়া যায় না সহজে। নির্মাণসামগ্রীর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। তাড়াহুড়া করে মেলা সাজানো তখন হয়ে পড়ে অবাস্তব। স্টলের বেশিরভাগ কর্মী শিক্ষার্থী। ঈদের আগে তারা বাড়ি যেতে চান। তাদের আটকে রাখাটা কতটা মানবিক? রোজা রেখে সারা দিন খাটুনি, তারপর ইফতারের পর ক্লান্ত শরীরে স্টলে দাঁড়িয়ে থাকা। এটা কি তাদের ধর্মীয় অনুভূতি আর মানবিক অধিকারের সম্মান? বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কাছে ২৬২ জন প্রকাশকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব কথাই বলা হয়েছে। সংস্কৃতি উপদেষ্টা আর প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রকাশকরা। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাবছেন, তাহলে তাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎটা আসলে কোথায়?
প্রকাশকদের দাবি শুধু মেলার সময় পেছানো নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে টিকে থাকার আরও কিছু শর্ত। তারা চান স্টল ও প্যাভিলিয়নের ভাড়া মওকুফ হোক, অবকাঠামো গড়ে দিক সরকার, শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হোক বই ভাতা বা প্রণোদনা। পাশাপাশি প্রতিটি মানসম্পন্ন বইয়ের অন্তত ৩০০ কপি সরকারিভাবে কেনার প্রস্তাবও রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে রাষ্ট্র নিয়মিত বই কিনে লাইব্রেরি সমৃদ্ধ করে। এতে লেখক ও প্রকাশক দুজনই ন্যূনতম নিরাপত্তা পান। ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রকাশনা খাত থেকে মোট দেশীয় আয়ের প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ আসে, কর্মসংস্থান হয়েছে সাড়ে সাত লাখ মানুষের। অর্থাৎ বই সেখানে কেবল সংস্কৃতি নয়, শক্তিশালী শিল্পও। বাংলাদেশে প্রকাশকরা বেশির ভাগ সময় ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে বই প্রকাশ করেন। লাভের নিশ্চয়তা নেই, তবু সাহিত্যের টানে কাজ করে যান। কিন্তু বাস্তবতা কঠিন। ভালোবাসা দিয়ে বই বের করা যায়, সংসার চালানো যায় না। সরকারি সহায়তা না থাকলে এই শিল্পের পক্ষে টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠবে।
এই দাবিগুলোর ভেতরের যুক্তি বুঝতে হলে প্রকাশনা শিল্পের পুরো অর্থনৈতিক চক্রটা দেখতে হবে। একটি বই কেবল লেখার মধ্যেই শেষ নয়। পাণ্ডুলিপি থেকে কম্পোজ, প্রুফ দেখা, প্রচ্ছদ তৈরি, ছাপা, বাঁধাই, বিপণন, প্রতিটি ধাপে আলাদা খরচ জড়িত। প্রতিটি ধাপেই টাকা ঢালতে হয় আগে, ফেরত আসবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই। বইমেলায় স্টল নেওয়াও কম ব্যয়ের বিষয় নয়। একটি মাঝারি স্টলের ভাড়া ধরুন ৮৪ হাজার টাকা। সাজসজ্জায় প্রায় তিন লাখ। মাসজুড়ে পরিচালনায় আরও তিন লাখের মতো। সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়ায় ছয় লাখের কাছাকাছি। ছোট প্রকাশকদের পক্ষে এই অঙ্ক জোগাড় করাই কঠিন, লাভ তো দূরের কথা। মেলাকে ঘিরে শত কোটি টাকার বই ছাপা হয়। তবু বিক্রির চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়।
বাংলা একাডেমির হিসাবে, গত বছর বই বিক্রি হয়েছে ৪৭ কোটি টাকার, আগের বছর ছিল ৫২ কোটি। অর্থাৎ বাজার সংকুচিত হচ্ছে। মেট্রোরেল চালু হওয়ায় দর্শক বাড়ার আশা তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সময় যদি এমন হয় যখন ক্রেতার হাতে বাড়তি টাকা নেই, তখন সেই সম্ভাবনাও পূর্ণতা পায় না।
প্রকাশনা শিল্পের সংকট বিশ্বব্যাপী, কিন্তু বাংলাদেশে এর গভীরতা আরও বেশি। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বই পড়ার হার কমছে, কিন্তু ভারতে সাপ্তাহিক গড় ১০ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। বাংলাদেশে এই হার অনেক কম। প্রকাশকরা বলছেন, গত দেড় বছরে বই বিক্রি ৬০ শতাংশ কমেছে। সর্বশেষ মেলায় অনেক প্রকাশক তাদের বিনিয়োগ তুলতে পারেননি। অথচ বইমেলার পুরো আয়োজনের আর্থিক ঝুঁকি প্রকাশকরাই বহন করেন। লেখক এবং পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে প্রকাশকদের দাবিগুলো উপেক্ষা করলে দেশের জ্ঞান এবং সৃজনশীলতা চর্চার ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।
প্রকাশকদের বড় দাবিগুলোর একটি সরকারি বই ক্রয়ের নীতিতে পরিবর্তন। মানসম্মত বই নিয়মিত কিনে রাষ্ট্র পাশে দাঁড়ালে ঝুঁকিটা অনেকটাই কমে যায়। তখন প্রকাশকও সাহস পান নতুন লেখক তুলে আনতে, ভিন্নধর্মী বই প্রকাশ করতে। বিশ্বের নানা দেশে এই পদ্ধতি কার্যকর। সরকার লাইব্রেরির জন্য বই কেনে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে। এতে লেখক, প্রকাশক দুপক্ষই ন্যূনতম নিশ্চয়তা পান। আমাদের দেশেও যদি শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মচারীদের বই কেনায় উৎসাহ দেওয়া হয়, পাঠকের পরিধি স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। এখন বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ বই-ই সীমিত সংখ্যায় ছাপা হয়। অল্প মুদ্রণ মানে প্রতি কপিতে খরচ বেশি, ঝুঁকিও বেশি। এই চাপে ছোট প্রকাশকেরা সবচেয়ে বিপদে পড়েন। ঈদের পর মেলা হলে মানুষের হাতে কিছুটা স্বস্তি থাকে। বড় খরচের চাপ কেটে যায়। তখন বই কেনার মানসিক প্রস্তুতিও তৈরি হয়। সময়ের এই সামান্য পরিবর্তনই প্রকাশনা শিল্পে নতুন গতি আনতে পারে।
অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, ফেব্রুয়ারির সময়সূচি ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত, এটা বদলালে ঐতিহ্য নষ্ট হবে। কিন্তু প্রকাশকরা বলছেন, মেলা চাই তবে ধ্বংসের পথে যেতে চাই না। বাংলাদেশে বইয়ের বাজার ছোট, আর পাঠকের অভ্যাসও কম। ইউনেস্কোর রিপোর্ট অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পাঠকের হার কমার কারণ অর্থনৈতিক চাপ। ফেব্রুয়ারিতে রমজান আর ঈদের কারণে এই চাপ বাড়ে। স্টল কর্মীদের মানবিক দিক চিন্তা করলে ঈদের পরে মেলা যুক্তিসঙ্গত।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাপুসের সাবেক সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটনের মতো প্রকাশকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রকাশনা খাত ৬৪ হাজার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৬ দেশে কাজ করে। বাংলাদেশে প্রকাশনা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু এর দেহে সঠিক পুষ্টি প্রদান করা হয় না। বিভাগীয় এবং জেলা শহরে বইমেলার আগ্রহ ছড়িয়ে দিলে তরুণদের বইমুখী করা যাবে। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যুগে এটি জাতির জন্য সুফল বয়ে আনবে। ছোট প্রকাশকরা এই সুযোগ পেলে শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন।
প্রকাশকদের দাবি মানলে অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে। বইমেলা ঘিরে স্টল সাজানোর খরচ থেকে শুরু করে প্রিন্টিং প্রেসের শ্রমিকদের রুটি-রুজি নির্ভর করে এই মেলায়। একটি স্টল সাজাতে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়, যা কাঠমিস্ত্রির মতো শ্রমিকদের আয় বাড়ায়। বইমেলায় রুটি-রুজি হাজারো শ্রমজীবীর। কাঁটাবন মসজিদ মার্কেটের প্রিন্টিং প্রেস মালিকরা বলছেন, মেলা উপলক্ষে কাজ বেড়ে যায়। প্রতি কপি বাঁধাই ২০-৩০ টাকা, এবং ৩০-৪০ হাজার কপি অর্ডার থাকে। এই আয় শ্রমিকদের পরিবার চালায়। ঈদের পর মেলা হলে এই চাকা আরও সহজে ঘুরবে।
বইমেলাকে লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে এবং একুশের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এমন একটা পথ বের করা সম্ভব, যেখানে সবার স্বার্থ রক্ষা পায়। যেহেতু এই মেলার প্রাণ একুশকে ঘিরেই, তাই একুশই হয়ে উঠুক সত্যিকারের প্রাণের মেলা। এর আগে বাংলা একাডেমি চত্বর থেকে মেলা সরানোর সময় তুমুল বিতর্ক উঠেছিল, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সময়ের প্রয়োজনে সেই পরিবর্তন সবার জন্যই মঙ্গলজনক হয়েছে।
তাই মেলার সময় নিয়ে, বিশেষ করে জাতীয় কোনও সংকট বা রমজানের সাথে সংঘাত হলে, সব পক্ষের সাথে খোলামেলা কথা বলা জরুরি। ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর প্রতীকী বইমেলা রাখা যেতে পারে, যেখানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে কিন্তু ব্যাপক বিক্রয় কার্যক্রম থাকবে না। নির্বাচন বা দুর্যোগের মতো বিশেষ অবস্থায় এই প্রতীকী আয়োজনটুকু রেখে পরে সবাই মিলে বসে আসল মেলার সময় ঠিক করা যায়।
পাঠকশূন্যতা, মানবিক চাপ আর অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ৩২১টি প্রকাশনা সংস্থা ফেব্রুয়ারির বইমেলা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এটি ছিল সময়ের বাস্তবতার সরাসরি স্বীকারোক্তি। বাজারের সংকট তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন। তারপরও ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার স্টল ভাড়া ৫৫ শতাংশ মওকুফের কথা বলেছে। কিন্তু প্রকাশকদের শঙ্কা কাটেনি। তাদের বক্তব্য, ভাড়া পুরো মওকুফ হলেও বর্তমান অবস্থায় পুঁজি উঠে আসার নিশ্চয়তা নেই। বিক্রি না হলে ছাড় দিয়ে কী হবে।
বইমেলা তো কেবল আয়োজন নয়। এটি লেখক, পাঠক আর প্রকাশকের মিলিত পরিসর। সেখানে প্রধান অংশীদারদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। মেলার দৈর্ঘ্য নিয়েও ভাবা যেতে পারে। কলকাতার বইমেলা কিংবা বিশ্বের বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলাও এত দীর্ঘ সময় ধরে চলে না। তাহলে আমাদের বাস্তবতা বিবেচনায় সময় ও পরিসর নতুন করে নির্ধারণে আপত্তি কোথায়।
অন্যদিকে, করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা এই শিল্পকে আরও সংকটে ফেলেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে পণ্যের দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত পাঠকের পকেট প্রায় শূন্য হয়ে গেছে। কাগজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি বইয়ের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে পাঠকরা আগের মতো ব্যাগভর্তি বই না কিনে মাত্র দুই-তিনটি বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছেন। বুদ্ধিজীবী মহল আশা করছেন এবারের মেলা প্রাণবন্ত হবে, কিন্তু ফেব্রুয়ারির সময়সূচি সেই আশায় ভাটা ধরাচ্ছে।
ঈদের পরে মূল বইমেলা করলে প্রকাশক আর পাঠক দুজনেই থাকবেন আর্থিক চাপমুক্ত। স্টল কর্মীদের ধর্মীয় অনুভূতিরও সম্মান রক্ষা হবে। সেই সাথে সরকার যদি স্টল ভাড়া মাফ করে, প্রতিটি মানসম্পন্ন বইয়ের ৩০০ কপি কিনে লাইব্রেরিতে দেয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বই-ভাতা চালু করে, তাহলে প্রকাশনা শিল্প বাঁচবে। বিভাগীয় শহরে মেলা ছড়িয়ে দিলে তরুণদের বইমুখী করা যাবে। মামুন মিয়াদের মতো প্রকাশকরা তখন নতুন স্বপ্ন বুনতে পারবেন। বইমেলা শুধু বই বিক্রির জায়গা নয়। এটা জাতিসত্তা আর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। এই শিল্পকে বাঁচাতে পারলে দেশের জ্ঞানচর্চা হবে সমৃদ্ধ। জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতা নেবে। ঠিক তখনই ঘনিয়ে আসবে বইমেলার তারিখ। তাই মনে করি, তাদের প্রথম দিকের এজেন্ডাগুলোর একটি হিসেবে বইমেলার সময়সূচি নিয়ে গভীরভাবে ভাবা উচিত। কারণ মানুষ যদি নিজের পেট চালাতেই না পারে, তাহলে ঐতিহ্য আবেগে বিকশিত হয় না। থেকে যায় অবরুদ্ধ অবস্থায়।
লেখক: ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
রিপোর্টারের নাম 





















