ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

নোয়াখালীতে ভোটের লড়াইয়ে ধরাশায়ী ৩৫ প্রার্থী: হারালেন জামানত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একটি বড় অংশই ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোট ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৫ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫ শতাংশ) ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নোয়াখালী-১ আসনে ৫ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ২ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ৫ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ৫ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১০ জন এবং নোয়াখালী-৬ আসনে ৮ জন প্রার্থী তাদের জামানত খুইয়েছেন।

আসনভিত্তিক ফলাফল ও জামানত হারানোদের চিত্র:

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী): এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। প্রদত্ত ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৩৪ ভোটের মধ্যে ৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— জহিরুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন), মো. নুরুল আমিন (জাতীয় পার্টি), মো. মশিউর রহমান (জেএসডি), মো. মমিনুল ইসলাম (বাংলাদেশ কংগ্রেস) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী ও জেএসডির রেহানা বেগম। এই আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহ পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩৬ ভোট।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী): আসনটিতে ২ লাখ ৮ হাজার ১০৭টি ভোট পড়ে। এখানে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের খলিলুর রহমান ও জাতীয় পার্টির মো. শাহাদাৎ হোসেন। আসনটিতে ৮৩ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ): ৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫৯ ভোটারের এই আসনে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এখানে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুর উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মোরশেদ আলম, জেএসডির মো. সিরাজ মিয়া, মো. রাজিব উদদৌলা চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ আহমেদ। আসনটিতে বিএনপির বরকত উল্লাহ বুলু ১ লাখ ৪১ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪১ ভোট।

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর): জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮৩টি ভোট পড়ে। এখানে ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী), গণঅধিকার পরিষদ ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোট ৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। আসনটিতে জেলার সর্বোচ্চ ২ লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. শাহজাহান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. ইসহাক খন্দকার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট): এই আসনে সবচেয়ে বেশি ১০ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলন, জনতার দল, জাতীয় পার্টি, জেএসডি, ইসলামিক ফ্রন্ট, বাসদ (মার্কসবাদী), ইনসানিয়াত বিপ্লব, বিআরপি এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মো. ফখরুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. বেলায়েত হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া): দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২টি ভোট পড়ে। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও বহিষ্কৃত তানবীর উদ্দিন রাজিবসহ মোট ৮ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। আসনটিতে ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কার্যালয় থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন: মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, দায়ীদের বিচারের দাবি ভাসানী জনশক্তি পার্টির

নোয়াখালীতে ভোটের লড়াইয়ে ধরাশায়ী ৩৫ প্রার্থী: হারালেন জামানত

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একটি বড় অংশই ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোট ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৫ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫ শতাংশ) ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নোয়াখালী-১ আসনে ৫ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ২ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ৫ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ৫ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১০ জন এবং নোয়াখালী-৬ আসনে ৮ জন প্রার্থী তাদের জামানত খুইয়েছেন।

আসনভিত্তিক ফলাফল ও জামানত হারানোদের চিত্র:

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী): এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। প্রদত্ত ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৩৪ ভোটের মধ্যে ৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— জহিরুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন), মো. নুরুল আমিন (জাতীয় পার্টি), মো. মশিউর রহমান (জেএসডি), মো. মমিনুল ইসলাম (বাংলাদেশ কংগ্রেস) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী ও জেএসডির রেহানা বেগম। এই আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহ পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩৬ ভোট।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী): আসনটিতে ২ লাখ ৮ হাজার ১০৭টি ভোট পড়ে। এখানে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের খলিলুর রহমান ও জাতীয় পার্টির মো. শাহাদাৎ হোসেন। আসনটিতে ৮৩ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ): ৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫৯ ভোটারের এই আসনে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এখানে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুর উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মোরশেদ আলম, জেএসডির মো. সিরাজ মিয়া, মো. রাজিব উদদৌলা চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ আহমেদ। আসনটিতে বিএনপির বরকত উল্লাহ বুলু ১ লাখ ৪১ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪১ ভোট।

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর): জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮৩টি ভোট পড়ে। এখানে ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী), গণঅধিকার পরিষদ ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোট ৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। আসনটিতে জেলার সর্বোচ্চ ২ লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. শাহজাহান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. ইসহাক খন্দকার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট): এই আসনে সবচেয়ে বেশি ১০ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলন, জনতার দল, জাতীয় পার্টি, জেএসডি, ইসলামিক ফ্রন্ট, বাসদ (মার্কসবাদী), ইনসানিয়াত বিপ্লব, বিআরপি এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মো. ফখরুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. বেলায়েত হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া): দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২টি ভোট পড়ে। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও বহিষ্কৃত তানবীর উদ্দিন রাজিবসহ মোট ৮ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। আসনটিতে ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কার্যালয় থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।