ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

মাদারীপুরের তিন আসনে ১৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, লড়াই ছাপিয়ে আলোচনায় বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর ব্যর্থতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তাদের এই আর্থিক সুরক্ষা বাজেয়াপ্ত করা হয়। আসনগুলোতে মূল লড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও অধিকাংশ প্রার্থীই সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।

মাদারীপুর-১: সামান্য ব্যবধানে জয়, জামানত হারালেন ৭ জন
মাদারীপুর-১ আসনে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫৬.৩৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ১০২টি কেন্দ্রে সংগৃহীত ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১০টি ভোটের মধ্যে ৩ হাজার ৭১৯টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়। এই আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা (রিকশা প্রতীক) ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাদিরা আক্তার (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫২৮ ভোট। মাত্র ৩৮১ ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়া এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা (জাহাজ প্রতীক) ৩৬ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তবে এই তিন প্রার্থী বাদে বাকি সাতজনই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন।

মাদারীপুর-২: বিএনপির জয়লাভ, জামানত খোয়ালেন ৭ প্রার্থী
মাদারীপুর-২ আসনে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৩২ জন ভোটারের বিপরীতে ভোট প্রদানের হার ছিল ৪৪.০৫ শতাংশ। ১৪৫টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪টি ভোট পড়ে, যার মধ্যে ৬ হাজার ৪৯৪টি ভোট বাতিল হয়। এই আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য (কলস প্রতীক) ৪৬ হাজার ৪৭৬ ভোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুস সোবাহান (রিকশা প্রতীক) ৩৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়েছেন। এই আসনেও বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাইরে থাকা অপর সাতজন প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

মাদারীপুর-৩: বিএনপি ও জামায়াতের লড়াই, ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
মাদারীপুর-৩ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল মূলত দ্বিমুখী। ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৬ জন ভোটারের এই আসনে ৫১.৮৯ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। ১৩৪টি কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ১ হাজার ২৩৭টি ভোট পড়ে এবং বাতিল হয় ৪ হাজার ৪৭৫টি ভোট। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার (ধানের শীষ) ৯৬ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৬৪৬ ভোট। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য তিন প্রার্থী ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রধান দলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ ছিল অত্যন্ত নগণ্য। ফলে জেলার অধিকাংশ আসনেই জামানত হারানোর হার ছিল চোখে পড়ার মতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন: মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, দায়ীদের বিচারের দাবি ভাসানী জনশক্তি পার্টির

মাদারীপুরের তিন আসনে ১৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, লড়াই ছাপিয়ে আলোচনায় বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর ব্যর্থতা

আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তাদের এই আর্থিক সুরক্ষা বাজেয়াপ্ত করা হয়। আসনগুলোতে মূল লড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও অধিকাংশ প্রার্থীই সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।

মাদারীপুর-১: সামান্য ব্যবধানে জয়, জামানত হারালেন ৭ জন
মাদারীপুর-১ আসনে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫৬.৩৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ১০২টি কেন্দ্রে সংগৃহীত ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১০টি ভোটের মধ্যে ৩ হাজার ৭১৯টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়। এই আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা (রিকশা প্রতীক) ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাদিরা আক্তার (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫২৮ ভোট। মাত্র ৩৮১ ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়া এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা (জাহাজ প্রতীক) ৩৬ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তবে এই তিন প্রার্থী বাদে বাকি সাতজনই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন।

মাদারীপুর-২: বিএনপির জয়লাভ, জামানত খোয়ালেন ৭ প্রার্থী
মাদারীপুর-২ আসনে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৩২ জন ভোটারের বিপরীতে ভোট প্রদানের হার ছিল ৪৪.০৫ শতাংশ। ১৪৫টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪টি ভোট পড়ে, যার মধ্যে ৬ হাজার ৪৯৪টি ভোট বাতিল হয়। এই আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য (কলস প্রতীক) ৪৬ হাজার ৪৭৬ ভোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুস সোবাহান (রিকশা প্রতীক) ৩৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়েছেন। এই আসনেও বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাইরে থাকা অপর সাতজন প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

মাদারীপুর-৩: বিএনপি ও জামায়াতের লড়াই, ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
মাদারীপুর-৩ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল মূলত দ্বিমুখী। ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৬ জন ভোটারের এই আসনে ৫১.৮৯ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। ১৩৪টি কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ১ হাজার ২৩৭টি ভোট পড়ে এবং বাতিল হয় ৪ হাজার ৪৭৫টি ভোট। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার (ধানের শীষ) ৯৬ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৬৪৬ ভোট। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য তিন প্রার্থী ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রধান দলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ ছিল অত্যন্ত নগণ্য। ফলে জেলার অধিকাংশ আসনেই জামানত হারানোর হার ছিল চোখে পড়ার মতো।