ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

বানারীপাড়ায় জাসদ নেতাকে মারধর: যুবদলের দুই নেতা বহিষ্কৃত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের বানারীপাড়ায় এক জাসদ নেতাকে মারধরের অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন—বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিক মল্লিক এবং সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে বাইশারী বাজারে বাংলাদেশ জাসদের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক বিধান কবিরাজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, বিধান কবিরাজ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়েছেন—এমন অজুহাতে অভিযুক্ত দুই যুবদল নেতা তার বসতবাড়িতে ঢুকে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এই হামলায় বিধান কবিরাজ গুরুতর আহত হন। ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশক্রমে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই বহিষ্কার আদেশ জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার দল নেবে না। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু কেন্দ্রীয় কমিটিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর বরিশাল জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহত বিধান কবিরাজের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয়তাবাদী দলে কোনো অপরাধীর স্থান নেই। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। বানারীপাড়ার এই ঘটনায় দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়ে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রফিক মল্লিক ও মাকসুদুর রহমান ডালিম জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি হাতে পাননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন: মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, দায়ীদের বিচারের দাবি ভাসানী জনশক্তি পার্টির

বানারীপাড়ায় জাসদ নেতাকে মারধর: যুবদলের দুই নেতা বহিষ্কৃত

আপডেট সময় : ০৫:২৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশালের বানারীপাড়ায় এক জাসদ নেতাকে মারধরের অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন—বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিক মল্লিক এবং সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে বাইশারী বাজারে বাংলাদেশ জাসদের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক বিধান কবিরাজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, বিধান কবিরাজ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়েছেন—এমন অজুহাতে অভিযুক্ত দুই যুবদল নেতা তার বসতবাড়িতে ঢুকে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এই হামলায় বিধান কবিরাজ গুরুতর আহত হন। ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশক্রমে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই বহিষ্কার আদেশ জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার দল নেবে না। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু কেন্দ্রীয় কমিটিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর বরিশাল জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহত বিধান কবিরাজের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয়তাবাদী দলে কোনো অপরাধীর স্থান নেই। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। বানারীপাড়ার এই ঘটনায় দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়ে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রফিক মল্লিক ও মাকসুদুর রহমান ডালিম জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি হাতে পাননি।