ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটের মাঠে নিরপেক্ষ ও পেশাদারত্বে প্রশংসিত সেনাবাহিনী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর এই ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার—সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন যে, সেনাবাহিনীর কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান না থাকলে স্মরণকালের এমন সুন্দর নির্বাচন সম্ভব ছিল না।

মব সহিংসতা ও সন্ত্রাস দমনে সফল অভিযান: ৫ আগস্টের পর পুলিশ যখন প্রায় নিষ্ক্রিয় এবং থানাগুলো অরক্ষিত, তখন থেকেই সেনাবাহিনী রাজপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছিল। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে সেনাবাহিনী বড় ধরনের কিছু অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনসহ একাধিক তালিকাভুক্ত অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার উল্লেখযোগ্য। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাড্ডায় ২১টি অস্ত্রসহ স্থানীয় সন্ত্রাসী মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার এবং যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার নির্বাচনী সহিংসতা রুখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নির্বাচনী দায়িত্বের পরিসংখ্যান: আইএসপিআর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এছাড়াও ৫ হাজার নৌবাহিনী এবং ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য তাঁদের সহযোগিতা করেছেন। সারাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬২টি জেলায় ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি বজায় রেখেছে। এমনকি দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় সামরিক হেলিকপ্টারে করে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও কর্মীদের পৌঁছে দেওয়ার কাজও করেছে তারা।

ব্যারাকে ফেরার প্রস্তুতি: নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় এবং নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকায় সেনাবাহিনী এখন ব্যারাকে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানিয়েছেন, “সরকার যখন চাইবে এবং বেসামরিক প্রশাসন যখন পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে, তখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।” সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিভিন্ন এরিয়া পরিদর্শনকালে বারবার পেশাদারত্ব ও নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যা মাঠপর্যায়ের সেনারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।

জনগণের আস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রশংসা: ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পর এবারের নির্বাচনে কোনো বড় ধরনের জালিয়াতি বা কেন্দ্র দখলের ঘটনা না ঘটায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। সেনাবাহিনী কেবল ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়নি, বরং সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার সাহস যুগিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর এই নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। মূলত ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র উদ্ধার এবং প্রায় ২২ হাজার চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আটক করার মাধ্যমেই একটি অবাধ নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হয়েছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

ভোটের মাঠে নিরপেক্ষ ও পেশাদারত্বে প্রশংসিত সেনাবাহিনী

আপডেট সময় : ০২:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর এই ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার—সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন যে, সেনাবাহিনীর কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান না থাকলে স্মরণকালের এমন সুন্দর নির্বাচন সম্ভব ছিল না।

মব সহিংসতা ও সন্ত্রাস দমনে সফল অভিযান: ৫ আগস্টের পর পুলিশ যখন প্রায় নিষ্ক্রিয় এবং থানাগুলো অরক্ষিত, তখন থেকেই সেনাবাহিনী রাজপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছিল। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে সেনাবাহিনী বড় ধরনের কিছু অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনসহ একাধিক তালিকাভুক্ত অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার উল্লেখযোগ্য। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাড্ডায় ২১টি অস্ত্রসহ স্থানীয় সন্ত্রাসী মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার এবং যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার নির্বাচনী সহিংসতা রুখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নির্বাচনী দায়িত্বের পরিসংখ্যান: আইএসপিআর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এছাড়াও ৫ হাজার নৌবাহিনী এবং ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য তাঁদের সহযোগিতা করেছেন। সারাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬২টি জেলায় ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি বজায় রেখেছে। এমনকি দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় সামরিক হেলিকপ্টারে করে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও কর্মীদের পৌঁছে দেওয়ার কাজও করেছে তারা।

ব্যারাকে ফেরার প্রস্তুতি: নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় এবং নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকায় সেনাবাহিনী এখন ব্যারাকে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানিয়েছেন, “সরকার যখন চাইবে এবং বেসামরিক প্রশাসন যখন পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে, তখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।” সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিভিন্ন এরিয়া পরিদর্শনকালে বারবার পেশাদারত্ব ও নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যা মাঠপর্যায়ের সেনারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।

জনগণের আস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রশংসা: ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পর এবারের নির্বাচনে কোনো বড় ধরনের জালিয়াতি বা কেন্দ্র দখলের ঘটনা না ঘটায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। সেনাবাহিনী কেবল ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়নি, বরং সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার সাহস যুগিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর এই নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। মূলত ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র উদ্ধার এবং প্রায় ২২ হাজার চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আটক করার মাধ্যমেই একটি অবাধ নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হয়েছিল।