ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনের ডাক তারেক রহমানের: শান্তিপূর্ণ বিজয় উদযাপন ও রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিজয় পরবর্তী প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বিজয় উদযাপনের নির্দেশনা দেন এবং জনগণের রায় মেনে রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। দেশের জনগণ সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছে। তিনি জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনে রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর হয়ে পড়া সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।

বিএনপি চেয়ারম্যান ভবিষ্যতে কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে বা দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তারেক রহমান গুরুত্বারোপ করে বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। তিনি দেশ গঠনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনার গুরুত্ব স্বীকার করে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।”

দেশের জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, জনমনে সৃষ্ট সকল সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। জনগণের প্রত্যাশিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণতন্ত্রের ইতিহাসে তাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তা, জনপ্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, এই নির্বাচনে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম এবং পর্যবেক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাদের প্রতিও অকৃত্রিম শুভেচ্ছা জানান।

তারেক রহমান ৭১-এর স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, যাদের রক্ত মাড়িয়ে, কষ্টের সিঁড়ি বেয়ে আজকের এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, তাদের ভূমিকা গণতন্ত্রকামী জনগণ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ রাখবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের রায় পেলে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল ও সারাদেশের জনগণের সঙ্গে মত বিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল এবং বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছিল। তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে বলেন, জনগণের কাছে প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্থক ছাড়াও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে আজকের এই সময়টি ভীষণ আনন্দের। তবে এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি তাদের ভারাক্রান্ত করে। তিনি স্মরণ করেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় বেগম খালেদা জিয়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়েছিলেন এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বরাবরই অটল অবিচল ছিলেন।

জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে দেশের জনগণ আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। তিনি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে এই বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শত নির্যাতন নিপীড়ণের পরও তারা রাজপথ ছাড়েননি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অটুট অনড় ছিলেন। এখন দেশ গড়ার পালা এবং দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারেক রহমান সারাদেশে বিএনপি ও জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে এবং নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য শত উস্কানির মুখেও তিনি বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলেন। তার বক্তব্য স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকান্ড বরদাস্ত করা হবে না। দলমত ধর্ম বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না, বরং ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল নির্বিশেষে প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলেন।

নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে স্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, এ ধরণের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ মানবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।” একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে তিনি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সকলের সহযোগিতা আশা করেন।

বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি, সকল প্রবাসী বাংলাদেশী এবং দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের প্রতি আবারো বিজয়ের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান তার বক্তব্য শেষ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কার ইস্যুতে দলের অবস্থানের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনের ডাক তারেক রহমানের: শান্তিপূর্ণ বিজয় উদযাপন ও রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিজয় পরবর্তী প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বিজয় উদযাপনের নির্দেশনা দেন এবং জনগণের রায় মেনে রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। দেশের জনগণ সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছে। তিনি জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনে রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর হয়ে পড়া সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।

বিএনপি চেয়ারম্যান ভবিষ্যতে কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে বা দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তারেক রহমান গুরুত্বারোপ করে বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। তিনি দেশ গঠনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনার গুরুত্ব স্বীকার করে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।”

দেশের জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, জনমনে সৃষ্ট সকল সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। জনগণের প্রত্যাশিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণতন্ত্রের ইতিহাসে তাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তা, জনপ্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, এই নির্বাচনে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম এবং পর্যবেক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাদের প্রতিও অকৃত্রিম শুভেচ্ছা জানান।

তারেক রহমান ৭১-এর স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, যাদের রক্ত মাড়িয়ে, কষ্টের সিঁড়ি বেয়ে আজকের এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, তাদের ভূমিকা গণতন্ত্রকামী জনগণ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ রাখবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের রায় পেলে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল ও সারাদেশের জনগণের সঙ্গে মত বিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল এবং বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছিল। তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে বলেন, জনগণের কাছে প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্থক ছাড়াও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে আজকের এই সময়টি ভীষণ আনন্দের। তবে এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি তাদের ভারাক্রান্ত করে। তিনি স্মরণ করেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় বেগম খালেদা জিয়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়েছিলেন এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বরাবরই অটল অবিচল ছিলেন।

জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে দেশের জনগণ আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। তিনি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে এই বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শত নির্যাতন নিপীড়ণের পরও তারা রাজপথ ছাড়েননি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অটুট অনড় ছিলেন। এখন দেশ গড়ার পালা এবং দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারেক রহমান সারাদেশে বিএনপি ও জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে এবং নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য শত উস্কানির মুখেও তিনি বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলেন। তার বক্তব্য স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকান্ড বরদাস্ত করা হবে না। দলমত ধর্ম বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না, বরং ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল নির্বিশেষে প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলেন।

নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে স্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, এ ধরণের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ মানবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।” একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে তিনি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সকলের সহযোগিতা আশা করেন।

বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি, সকল প্রবাসী বাংলাদেশী এবং দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের প্রতি আবারো বিজয়ের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান তার বক্তব্য শেষ করেন।