ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

গুমের সাক্ষ্য: ইলিয়াস আলীকে ‘গলফ’ করার অভিযোগ মেজর জিয়ার বিরুদ্ধে

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক ইমরুল কায়েস সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়ে মেজর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। ইমরুল নিজেকে মেজর জিয়ার ‘রানার’ হিসেবে পরিচয় দেন।

রবিবার দেওয়া জবানবন্দিতে ইমরুল বলেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ এবং সাইফ স্যারের সাথে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। সেখানে কে কাকে গাড়িতে তুলবে তা তিনি জানতেন না। তবে গাড়িতে বসে মেজর জিয়াউল বিভিন্নজনকে ফোন করছিলেন এবং টার্গেট কখন আসবে তা জানতে চাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন যে টার্গেট আসছেন না। এরপর তিনি মেজর জিয়াউলকে বাসায় নামিয়ে দেন। পরদিন সকালে তিনি নয় দিনের ছুটিতে বাড়ি যান। ছুটি চলাকালীন ১৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী থেকে অপহরণ করা হয়েছে।

ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর ইমরুল সেখানে থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করেন। তিনি জানান, সাধারণত সকাল ৯টায় রোল কল হলেও ১৮ এপ্রিলের পর থেকে সকাল ৭টায় রোল কল শুরু হয় এবং বেশ কয়েকদিন মেজর জিয়াউল সকালেই আসতেন। একদিন মেজর জিয়াউল ফোনে কথা বলছিলেন। তখন তার অন্য একটি ফোনে কল আসে এবং তিনি বলেন, ‘তুই রাখ। তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।’ এরপর তিনি তারিক স্যারের সাথে কথা বলতে শুরু করেন।

ইমরুল আরও জানান, অপরপ্রান্তে কী কথা হচ্ছিল তা তিনি জানেন না। তবে মেজর জিয়াউল অভিযোগের সুরে বলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ করেছি, এখন আপনারা এমন করলে কেমনে হবে। এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং করে দেন, আমি সেটাই ভালো।’

সাক্ষী ইমরুল আরও জানান, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরার জন্য। এসময় মেজর জিয়া ১০ জনকে হত্যা করেন, যাদেরকে তিনি বিডিআর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এই হত্যাকাণ্ড দুটি পদ্ধতিতে সংঘটিত হতো। একটি পদ্ধতিতে ইনজেকশন পুশ করে মারা হতো, অন্যটিতে পোস্তগোলা ব্রিজের একটি আর্মি ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে বোটে করে নদীতে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে সিমেন্টের বস্তা রেখে তার উপর ব্যক্তিকে বসানো হতো, এরপর আরও একটি সিমেন্টের বস্তা দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে মাথায় গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে মোদির রেড রোড অনুষ্ঠানে সমতা নিয়ে বিতর্ক

গুমের সাক্ষ্য: ইলিয়াস আলীকে ‘গলফ’ করার অভিযোগ মেজর জিয়ার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৬:০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক ইমরুল কায়েস সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়ে মেজর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। ইমরুল নিজেকে মেজর জিয়ার ‘রানার’ হিসেবে পরিচয় দেন।

রবিবার দেওয়া জবানবন্দিতে ইমরুল বলেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ এবং সাইফ স্যারের সাথে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। সেখানে কে কাকে গাড়িতে তুলবে তা তিনি জানতেন না। তবে গাড়িতে বসে মেজর জিয়াউল বিভিন্নজনকে ফোন করছিলেন এবং টার্গেট কখন আসবে তা জানতে চাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন যে টার্গেট আসছেন না। এরপর তিনি মেজর জিয়াউলকে বাসায় নামিয়ে দেন। পরদিন সকালে তিনি নয় দিনের ছুটিতে বাড়ি যান। ছুটি চলাকালীন ১৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী থেকে অপহরণ করা হয়েছে।

ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর ইমরুল সেখানে থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করেন। তিনি জানান, সাধারণত সকাল ৯টায় রোল কল হলেও ১৮ এপ্রিলের পর থেকে সকাল ৭টায় রোল কল শুরু হয় এবং বেশ কয়েকদিন মেজর জিয়াউল সকালেই আসতেন। একদিন মেজর জিয়াউল ফোনে কথা বলছিলেন। তখন তার অন্য একটি ফোনে কল আসে এবং তিনি বলেন, ‘তুই রাখ। তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।’ এরপর তিনি তারিক স্যারের সাথে কথা বলতে শুরু করেন।

ইমরুল আরও জানান, অপরপ্রান্তে কী কথা হচ্ছিল তা তিনি জানেন না। তবে মেজর জিয়াউল অভিযোগের সুরে বলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ করেছি, এখন আপনারা এমন করলে কেমনে হবে। এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং করে দেন, আমি সেটাই ভালো।’

সাক্ষী ইমরুল আরও জানান, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরার জন্য। এসময় মেজর জিয়া ১০ জনকে হত্যা করেন, যাদেরকে তিনি বিডিআর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এই হত্যাকাণ্ড দুটি পদ্ধতিতে সংঘটিত হতো। একটি পদ্ধতিতে ইনজেকশন পুশ করে মারা হতো, অন্যটিতে পোস্তগোলা ব্রিজের একটি আর্মি ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে বোটে করে নদীতে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে সিমেন্টের বস্তা রেখে তার উপর ব্যক্তিকে বসানো হতো, এরপর আরও একটি সিমেন্টের বস্তা দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে মাথায় গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।