ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ভবিষ্যতের আকাশপথে বাংলাদেশের রূপরেখা: জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন শুরু

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান (সিএএমপি) প্রণয়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের সূচনা হয় রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে “সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যানিং অভারভিউ” শীর্ষক একটি কর্মশালার মাধ্যমে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) গোল্ড সনদপ্রাপ্ত সিভিল এভিয়েশন একাডেমি, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মশালায় আইকাও-এর কারিগরি সহায়তাও ছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) কর্মশালার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার।

কর্মশালায় জানানো হয়, এই প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যানটি আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য দেশের বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন লক্ষ্য, অগ্রাধিকার এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। পরিকল্পনার আওতায় বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, এয়ার নেভিগেশন সেবার আধুনিকায়ন, এয়ারলাইন্স খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিতকরণের মতো বিস্তৃত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম উল্লেখ করেন যে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর আলোকে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী আকাশপথ সংযোগ সম্প্রসারণ, প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিক লজিস্টিক ও যাত্রী পরিবহন কেন্দ্রে উন্নীত করা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং নতুন বিমানবন্দর নির্মাণসহ চলমান প্রকল্পগুলো বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে মোদির রেড রোড অনুষ্ঠানে সমতা নিয়ে বিতর্ক

ভবিষ্যতের আকাশপথে বাংলাদেশের রূপরেখা: জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন শুরু

আপডেট সময় : ০৬:০৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান (সিএএমপি) প্রণয়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের সূচনা হয় রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে “সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যানিং অভারভিউ” শীর্ষক একটি কর্মশালার মাধ্যমে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) গোল্ড সনদপ্রাপ্ত সিভিল এভিয়েশন একাডেমি, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মশালায় আইকাও-এর কারিগরি সহায়তাও ছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) কর্মশালার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার।

কর্মশালায় জানানো হয়, এই প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যানটি আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য দেশের বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন লক্ষ্য, অগ্রাধিকার এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। পরিকল্পনার আওতায় বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, এয়ার নেভিগেশন সেবার আধুনিকায়ন, এয়ারলাইন্স খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিতকরণের মতো বিস্তৃত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম উল্লেখ করেন যে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর আলোকে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী আকাশপথ সংযোগ সম্প্রসারণ, প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিক লজিস্টিক ও যাত্রী পরিবহন কেন্দ্রে উন্নীত করা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং নতুন বিমানবন্দর নির্মাণসহ চলমান প্রকল্পগুলো বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।