নতুন সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তাদের মূল বেতন নির্ধারিত রয়েছে, তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে এবং দৈনন্দিন খরচ নির্বাহের জন্য বিভিন্ন খাতে আরও অনেক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ভোগ করে থাকেন তারা। এই অতিরিক্ত সুবিধাগুলো ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী নির্ধারিত, যা সময়ের সাথে সাথে সংশোধিত হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি, নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য তারা মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পান। এছাড়াও, আপ্যায়ন বাবদ ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহন খাতে একটি বড় অঙ্কের অর্থ, ৭০ হাজার টাকা, বরাদ্দ থাকে। এই পরিবহন ভাতার মধ্যে গাড়ির জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত। অফিস পরিচালনার জন্য ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের জন্য ৬ হাজার টাকা মাসিক ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়। এই সব মিলিয়ে, বেতনের বাইরেও তাদের দায়িত্ব পালনের সাথে জড়িত বিভিন্ন খরচের জন্য আলাদাভাবে ভাতা নির্ধারিত আছে।
যানবাহনের ক্ষেত্রে, সংসদ সদস্যরা শুল্ক, ভ্যাট এবং করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান। তাদের দায়িত্বকাল পাঁচ বছর পূর্ণ হলে, একই সুবিধা ব্যবহার করে তারা পুনরায় নতুন একটি গাড়ি আমদানি করতে পারেন।
ভ্রমণের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াতের জন্য সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে ভ্রমণের জন্য কিলোমিটারপ্রতি নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রাপ্য। এছাড়া, দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের জন্য বছরে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে।
সংসদ সদস্যগণ যখন তাদের দায়িত্বস্থলে অবস্থান করেন, তখন প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলে এই দৈনিক ভাতা বেড়ে ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা হয় ২০০ টাকা।
চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করেন। এছাড়াও, মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসাভাতা প্রদান করা হয়।
দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে, দায়িত্ব পালনকালে ১০ লক্ষ টাকার সরকারি বীমা সুবিধা প্রযোজ্য। পাশাপাশি, বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য, সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। মাসিক টেলিফোন ভাড়া এবং কল খরচ বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংসদ সদস্যরা যে সকল ভাতা পান, সেগুলো আয়করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সব মিলিয়ে, বেতন ছাড়াও সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত একাধিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে, যা তাদের কর্মপরিধিকে সহজ করে তোলে।
রিপোর্টারের নাম 






















