ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার জামায়াত আমিরকে অভিনন্দন: জাতীয় ঐক্য ও গঠনমূলক রাজনীতির আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা দলটিকে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য সুসংহত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

শনিবার পাঠানো ওই বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনি প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনকালে জামায়াতে ইসলামী যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা আমাদের সামনে বিদ্যমান। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি প্রত্যাশা করেন, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।

জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে জামায়াত আমির অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন, ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও তা অব্যাহত রাখবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি।

বার্তার শেষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুকে মোদির ফোন, কী কথা হলো

প্রধান উপদেষ্টার জামায়াত আমিরকে অভিনন্দন: জাতীয় ঐক্য ও গঠনমূলক রাজনীতির আহ্বান

আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা দলটিকে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য সুসংহত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

শনিবার পাঠানো ওই বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনি প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনকালে জামায়াতে ইসলামী যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা আমাদের সামনে বিদ্যমান। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি প্রত্যাশা করেন, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।

জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে জামায়াত আমির অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন, ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও তা অব্যাহত রাখবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি।

বার্তার শেষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।