ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। ৪১ বছর বয়সী এই তরুণ আইনজীবী এবারের সংসদের সর্বকনিষ্ঠ নারী সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। একইসঙ্গে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার মধ্যে তিনিই একমাত্র নারী প্রার্থী, যিনি বিজয়ী হয়ে সংসদে পা রাখছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাবার হারানো আসনটি পুনরায় উদ্ধার করল বিএনপি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ব্যারিস্টার পুতুল পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট। অর্থাৎ ১৩ হাজার ২৯৫ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন পুতুল।
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বিএনপি সরকারের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক মরহুম ফজলুর রহমান পটলের সুযোগ্য কন্যা। তাঁর বাবা ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। এরপর রাজনৈতিক নানা সমীকরণে দীর্ঘ ১৮ বছর এই আসনে বিএনপির কোনো জনপ্রতিনিধি ছিল না। বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে সেই হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করলেন তাঁর উত্তরসূরি।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার পুতুল বলেন, “এই বিজয় আমার একার নয়, এটি লালপুর ও বাগাতিপাড়ার সর্বস্তরের মানুষের বিজয়। মহান আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি আমাকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।” নির্বাচনী মাঠে প্রতিকূল পরিবেশেও যেসব নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্লিন ইমেজ এবং বাবার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারাই পুতুলের এই বড় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এর মাধ্যমে নাটোরের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
রিপোর্টারের নাম 























