ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন: অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক জয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ যেন অঘটনেরই নামান্তর। এবারের আসরের শুরুতেই সেই নাটকের প্রথম দৃশ্য রচনা করল জিম্বাবুয়ে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানের ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আগমনী বার্তা দিল সিকান্দার রাজার দল, যা ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

কলম্বোর সবুজ গালিচায় টস জিতে জিম্বাবুয়েকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। তবে এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। ওপেনিং জুটিতে দারুণ শুরু করে জিম্বাবুয়ে। তাদিয়ানসে মারুমানি ২১ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরলেও, দলের রানের চাকাকে সচল রাখেন ব্রায়ান বেনেট। মারুমানির বিদায়ের পর রায়ান বার্লকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন বেনেট। বার্ল ৩০ রান করে আউট হলেও, একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন বেনেট। শেষদিকে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার (২৫) সঙ্গে জুটি বেঁধে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। বেনেট ৫৬ বলে ৬৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৭টি চারের মার। নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ ও সুইংয়ের সামনে পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের গতি ও সুইংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে অজি টপ অর্ডার। চাপের মুখে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশো ৭৭ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ম্যাক্সওয়েল ৩১ রান করে সাজঘরে ফিরতেই অস্ট্রেলিয়ার আশার আলো নিভে যায়। একপ্রান্তে একা লড়াই চালিয়ে যান ম্যাট রেনশো। তিনি ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করে ৬৫ রান করলেও, বাকি ব্যাটারদের কাছ থেকে তেমন কোনো সমর্থন পাননি। অধিনায়ক ট্রাভিস হেডের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান, তবে তিন জন ব্যাটার রানের খাতা খুলতেই পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

জিম্বাবুয়ের এই ঐতিহাসিক জয়ের মূল কারিগর ছিলেন তাদের বোলাররাই। ব্লেসিং মুজারাবানি একাই ৪টি উইকেট শিকার করে অজি ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন। অন্যদিকে, ব্র্যাড ইভান্সও ৩টি উইকেট নিয়ে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর ধারাবাহিক আক্রমণে অস্ট্রেলিয়াকে পুরোটা সময় চাপে রেখেছিল জিম্বাবুয়ে। বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন এক ঐতিহাসিক জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। এই জয় বড় দলগুলোর জন্য স্পষ্ট বার্তা—এবারের আসরে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন: অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক জয়

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ যেন অঘটনেরই নামান্তর। এবারের আসরের শুরুতেই সেই নাটকের প্রথম দৃশ্য রচনা করল জিম্বাবুয়ে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানের ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আগমনী বার্তা দিল সিকান্দার রাজার দল, যা ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

কলম্বোর সবুজ গালিচায় টস জিতে জিম্বাবুয়েকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। তবে এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। ওপেনিং জুটিতে দারুণ শুরু করে জিম্বাবুয়ে। তাদিয়ানসে মারুমানি ২১ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরলেও, দলের রানের চাকাকে সচল রাখেন ব্রায়ান বেনেট। মারুমানির বিদায়ের পর রায়ান বার্লকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন বেনেট। বার্ল ৩০ রান করে আউট হলেও, একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন বেনেট। শেষদিকে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার (২৫) সঙ্গে জুটি বেঁধে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। বেনেট ৫৬ বলে ৬৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৭টি চারের মার। নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ ও সুইংয়ের সামনে পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের গতি ও সুইংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে অজি টপ অর্ডার। চাপের মুখে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশো ৭৭ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ম্যাক্সওয়েল ৩১ রান করে সাজঘরে ফিরতেই অস্ট্রেলিয়ার আশার আলো নিভে যায়। একপ্রান্তে একা লড়াই চালিয়ে যান ম্যাট রেনশো। তিনি ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করে ৬৫ রান করলেও, বাকি ব্যাটারদের কাছ থেকে তেমন কোনো সমর্থন পাননি। অধিনায়ক ট্রাভিস হেডের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান, তবে তিন জন ব্যাটার রানের খাতা খুলতেই পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

জিম্বাবুয়ের এই ঐতিহাসিক জয়ের মূল কারিগর ছিলেন তাদের বোলাররাই। ব্লেসিং মুজারাবানি একাই ৪টি উইকেট শিকার করে অজি ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন। অন্যদিকে, ব্র্যাড ইভান্সও ৩টি উইকেট নিয়ে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর ধারাবাহিক আক্রমণে অস্ট্রেলিয়াকে পুরোটা সময় চাপে রেখেছিল জিম্বাবুয়ে। বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন এক ঐতিহাসিক জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। এই জয় বড় দলগুলোর জন্য স্পষ্ট বার্তা—এবারের আসরে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।