ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লব ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: শক্তিশালী সংসদীয় গণতন্ত্রে ‘ছায়া মন্ত্রিসভার’ ভূমিকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত জুলাই বিপ্লব কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, এটি এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক, সার্বভৌম ও বিশ্বমঞ্চে স্বমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত এক বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার এই বিপ্লবের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে, তা পূরণে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো একটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। এই প্রেক্ষাপটে, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’র মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়ে চলছে গভীর আলোচনা।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। গণতন্ত্রের স্বপ্ন বারবার ব্যাহত হয়েছে, কখনও একদলীয় শাসনের নামে, কখনও সামরিক একনায়কতন্ত্রের ছায়ায়। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলেও তা দেশের আকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হতে পারেনি। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও অগণতান্ত্রিক আচরণ দেশকে বারবার পিছিয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন’-এর মাধ্যমে যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশের জন্য এক অশনিসংকেত। এরপরের দীর্ঘ ১৬টি বছর ছিল একদলীয় স্বৈরাচারী শাসনের কাল। নামমাত্র নির্বাচন, বিরোধী দলের অংশগ্রহণবিহীন প্রক্রিয়া এবং ভোট ডাকাতির মতো ঘটনাগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। প্রতিবেশী একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের একচ্ছত্র সমর্থনে এই ফ্যাসিবাদী শাসন টিকে ছিল, যেখানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, খুন-রাহাজানি এক নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছিল। তবে জনগণের ক্ষোভ চিরদিন দমন করা যায় না; ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের কোটাব্যবস্থা সংস্কারের ন্যায্য দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন গণবিপ্লবে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার অসীম সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সামনে ফ্যাসিবাদী সরকার টিকতে পারেনি এবং জুলাই বিপ্লব সফল হয়।

জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ও জাতির সম্মিলিত আত্মপর্যালোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে এই প্রশ্ন যে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এত দীর্ঘস্থায়ী স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা পেল। ভবিষ্যতে যেন এমন স্বৈরাচারিতা আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকার দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সংস্কারের পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের প্রস্তাবনা পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিমার্জন করে ‘জুলাই সনদ’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে একটি সংগঠিত ও নীতিনির্ভর বিরোধী দলের উপস্থিতির ওপর। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিমূলক শাসন নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের ভূমিকা শুধু সরকারবিরোধী অবস্থানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নীতি, আইন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর গঠনমূলক নজরদারি চালানোই তাদের প্রধান দায়িত্ব। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রায়শই সংসদের বাইরে আন্দোলনকেন্দ্রিক থেকেছে, যা সংসদীয় বিতর্ক ও নীতিনির্ভর সমালোচনার সুযোগ সীমিত করেছে। এই বাস্তবতায়, ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ব্যবস্থা বিরোধীদলীয় রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে।

ছায়া মন্ত্রিসভা এমন একটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা থাকেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি ও কর্মসূচি বিশ্লেষণ করেন এবং সংসদে ও জনপরিসরে সরকারের সিদ্ধান্তের বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে এই ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশে ছায়া মন্ত্রিসভার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ শুধু বিরোধী রাজনীতির ধরনকেই পরিবর্তন করবে না; বরং সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও নীতিনির্ভর করে তুলতে পারে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নীতিগত পরিসরে স্থানান্তরিত হলে তা দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক শাসনের মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

একটি কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা তিনটি মূল কাজ সম্পাদন করে—সরকারের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, বিকল্প নীতির কাঠামো উপস্থাপন এবং ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি। এটিকে কার্যকর করতে হলে প্রতিটি ছায়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে গবেষণা ও নীতিবিশ্লেষণ ইউনিট থাকা জরুরি। সংসদ অধিবেশনে নিয়মিত নীতিসংক্রান্ত ব্রিফ, বাজেট অধিবেশনে বিকল্প বাজেট কাঠামো এবং নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ ছায়া মন্ত্রিসভাকে শুধু প্রতীকী নয়, বরং প্রভাবশালী করে তুলবে।

নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যেন আবার অতীতের মতো গণতন্ত্রের মোড়কে সরকার এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যকার হানাহানি ও সংঘাতের পরিস্থিতিতে প্রত্যাবর্তন না করে, সে জন্য ‘ছায়া মন্ত্রণালয়’-এর প্রচলন একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হতে পারে। এক্ষেত্রে, যদি গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় আসে এবং একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়, তারা খুব সহজেই ‘ছায়া মন্ত্রণালয়’কে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এর ফলে প্রধান বিরোধী দল যেই হোক না কেন, তারা নির্বাচনের পর থেকেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যস্ত না থেকে সংসদে গঠনমূলক অবদান রাখতে নৈতিকভাবে বাধ্য থাকবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জনগণের চোখে তাদের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত জুলাই বিপ্লবকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে না দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী, গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সংসদীয় ব্যবস্থা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে ‘ছায়া মন্ত্রণালয়’ হতে পারে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শব্দের কারসাজি ও ক্ষমতার রাজনীতি: ভাষা যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার

জুলাই বিপ্লব ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: শক্তিশালী সংসদীয় গণতন্ত্রে ‘ছায়া মন্ত্রিসভার’ ভূমিকা

আপডেট সময় : ০৩:২৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত জুলাই বিপ্লব কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, এটি এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক, সার্বভৌম ও বিশ্বমঞ্চে স্বমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত এক বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার এই বিপ্লবের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে, তা পূরণে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো একটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। এই প্রেক্ষাপটে, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’র মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়ে চলছে গভীর আলোচনা।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। গণতন্ত্রের স্বপ্ন বারবার ব্যাহত হয়েছে, কখনও একদলীয় শাসনের নামে, কখনও সামরিক একনায়কতন্ত্রের ছায়ায়। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলেও তা দেশের আকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হতে পারেনি। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও অগণতান্ত্রিক আচরণ দেশকে বারবার পিছিয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন’-এর মাধ্যমে যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশের জন্য এক অশনিসংকেত। এরপরের দীর্ঘ ১৬টি বছর ছিল একদলীয় স্বৈরাচারী শাসনের কাল। নামমাত্র নির্বাচন, বিরোধী দলের অংশগ্রহণবিহীন প্রক্রিয়া এবং ভোট ডাকাতির মতো ঘটনাগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। প্রতিবেশী একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের একচ্ছত্র সমর্থনে এই ফ্যাসিবাদী শাসন টিকে ছিল, যেখানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, খুন-রাহাজানি এক নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছিল। তবে জনগণের ক্ষোভ চিরদিন দমন করা যায় না; ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের কোটাব্যবস্থা সংস্কারের ন্যায্য দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন গণবিপ্লবে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার অসীম সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সামনে ফ্যাসিবাদী সরকার টিকতে পারেনি এবং জুলাই বিপ্লব সফল হয়।

জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ও জাতির সম্মিলিত আত্মপর্যালোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে এই প্রশ্ন যে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এত দীর্ঘস্থায়ী স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা পেল। ভবিষ্যতে যেন এমন স্বৈরাচারিতা আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকার দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সংস্কারের পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের প্রস্তাবনা পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিমার্জন করে ‘জুলাই সনদ’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে একটি সংগঠিত ও নীতিনির্ভর বিরোধী দলের উপস্থিতির ওপর। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিমূলক শাসন নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের ভূমিকা শুধু সরকারবিরোধী অবস্থানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নীতি, আইন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর গঠনমূলক নজরদারি চালানোই তাদের প্রধান দায়িত্ব। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রায়শই সংসদের বাইরে আন্দোলনকেন্দ্রিক থেকেছে, যা সংসদীয় বিতর্ক ও নীতিনির্ভর সমালোচনার সুযোগ সীমিত করেছে। এই বাস্তবতায়, ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ব্যবস্থা বিরোধীদলীয় রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে।

ছায়া মন্ত্রিসভা এমন একটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা থাকেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি ও কর্মসূচি বিশ্লেষণ করেন এবং সংসদে ও জনপরিসরে সরকারের সিদ্ধান্তের বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে এই ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশে ছায়া মন্ত্রিসভার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ শুধু বিরোধী রাজনীতির ধরনকেই পরিবর্তন করবে না; বরং সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও নীতিনির্ভর করে তুলতে পারে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নীতিগত পরিসরে স্থানান্তরিত হলে তা দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক শাসনের মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

একটি কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা তিনটি মূল কাজ সম্পাদন করে—সরকারের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, বিকল্প নীতির কাঠামো উপস্থাপন এবং ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি। এটিকে কার্যকর করতে হলে প্রতিটি ছায়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে গবেষণা ও নীতিবিশ্লেষণ ইউনিট থাকা জরুরি। সংসদ অধিবেশনে নিয়মিত নীতিসংক্রান্ত ব্রিফ, বাজেট অধিবেশনে বিকল্প বাজেট কাঠামো এবং নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ ছায়া মন্ত্রিসভাকে শুধু প্রতীকী নয়, বরং প্রভাবশালী করে তুলবে।

নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যেন আবার অতীতের মতো গণতন্ত্রের মোড়কে সরকার এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যকার হানাহানি ও সংঘাতের পরিস্থিতিতে প্রত্যাবর্তন না করে, সে জন্য ‘ছায়া মন্ত্রণালয়’-এর প্রচলন একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হতে পারে। এক্ষেত্রে, যদি গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় আসে এবং একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়, তারা খুব সহজেই ‘ছায়া মন্ত্রণালয়’কে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এর ফলে প্রধান বিরোধী দল যেই হোক না কেন, তারা নির্বাচনের পর থেকেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যস্ত না থেকে সংসদে গঠনমূলক অবদান রাখতে নৈতিকভাবে বাধ্য থাকবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জনগণের চোখে তাদের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত জুলাই বিপ্লবকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে না দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী, গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সংসদীয় ব্যবস্থা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে ‘ছায়া মন্ত্রণালয়’ হতে পারে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।