আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা জোরদার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যেখানে চুক্তির সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে রবিবার উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে, একই দিনটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্মদিন হওয়ায় বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফোয়াদ আজাদি মনে করেন, ইরান এই চুক্তিকে ট্রাম্পের জন্মদিনের উপহার হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইবে না।
অধ্যাপক আজাদি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। দেশটির বেশিরভাগ মানুষই আশা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে, তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইরানি কর্মকর্তারা রবিবার চুক্তি স্বাক্ষর এড়িয়ে যেতে পারেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ইরান এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না যেখানে ট্রাম্প এই চুক্তিকে তার জন্মদিনের উপহার হিসেবে দাবি করতে পারেন, বিশেষ করে যখন তিনি গুরুতর যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অধ্যাপক আজাদি আরও মন্তব্য করেন যে, কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে প্রকৃত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তিনি মনে করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নীতি অনুসরণ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড যতদিন ইসরাইলের দখলে থাকবে এবং যতদিন এই দুই রাষ্ট্রের নেতৃত্ব গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের হাতে থাকবে, ততদিন ইরান তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ বা স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না।’
একই সঙ্গে, তিনি বর্তমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে বলেও মন্তব্য করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















