বিশ্বকাপ ফুটবলের শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকার কিংবা ক্রিকেটের শেষ ওভারের নাটকীয়তা—সবই যেন ম্লান হয়ে আসছে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে। আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, দিনশেষে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের এক চূড়ান্ত ফয়সালা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশক পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ, যা মাত্র কয়েক বছর আগেও ছিল সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনী মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি অভাবনীয় দিক ফুটে ওঠে, যা এই নির্বাচনকে ইতিহাসের পাতায় আলাদা করে রাখবে।
গুজব বনাম বাস্তবতা ও নীরব ভোটার:
নির্বাচন এলেই বাংলাদেশে নানা গুজব ও শঙ্কার ডালপালা মেলে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নির্বাচন ভণ্ডুল করার নানা ষড়যন্ত্র ও নাশকতার আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। তবে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের আচরণ বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলছে। অতীতে সুষ্ঠু নির্বাচনের আগে জনমনে যে ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস দেখা যেত, এবার সেখানে এক ধরনের ‘রহস্যময় নীরবতা’ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভোটাররা আগের মতো সরব না হলেও তাদের এই নীরবতা কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
পোস্টারহীন ডিজিটাল প্রচারণা:
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪—পরপর তিনটি নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে ২০২৬-এর চিত্র ভিন্ন। এবারের নির্বাচনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রাজপথে চিরচেনা পোস্টারের আধিক্যের বদলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রাধান্য। নির্বাচনী আচরণবিধি এবং আধুনিক চিন্তাধারার মিশেলে প্রার্থীরা এবার কাগজের পোস্টারের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্রচারণাকেই বেছে নিয়েছেন বেশি।
মাল্টিমিডিয়া প্রচারণার প্রভাব:
শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই প্রার্থীরা মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। এই প্রচারণায় হয়তো সনাতন পদ্ধতির সেই ‘হৃদয়ের উষ্ণতা’ কিছুটা কম ছিল, কিন্তু তথ্য ও যুক্তির লড়াই ছিল তুঙ্গে। তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা প্রোপাগান্ডা ও পাল্টা প্রোপাগান্ডার যে ডিজিটাল লড়াই চালিয়েছেন, তা ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখছে। পুরোনো ঘরানার রাজনীতিবিদরা এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হিমশিম খেলেও, সাধারণ মানুষ কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে পরখ করে নিচ্ছেন।
শেষ পর্যন্ত এই নীরব ভোটার এবং ডিজিটাল প্রচারণার সমীকরণ ব্যালট বক্সে কী প্রতিফলন ঘটায়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে পুরো দেশ। ২০২৬-এর এই নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, এটি হতে যাচ্ছে নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক অনন্য পরীক্ষা।
রিপোর্টারের নাম 























