ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময়কর মোড়: আগামী নির্বাচন ও পরিবর্তিত সমীকরণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হওয়ার শামিল। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিদ্বেষপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চা এবং চরম অসহিষ্ণুতার এক সম্মিলিত পরিণতির ফলে এমন এক বাস্তবতার জন্ম হয়েছে, যা অনেকের কাছেই হজম করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনার দাবি রাখে।

প্রথমত, দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ তকমা নিয়ে সমালোচিত জামায়াতে ইসলামী, এবার আলেম-ওলামাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ইসলামি জোটের নেতৃত্ব দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

বিষয়টিকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে দলটি একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে নিজেদের গৌরবগাথা রচনা করেছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে বারংবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেই আওয়ামী লীগ আজ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এর বিপরীতে, যাদেরকে বছরের পর বছর ধরে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ ও ‘রাজাকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এমনকি যাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে, সেই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১-দলীয় ইসলামি জোটের মূলধারার রাজনীতিতে এভাবে প্রবেশ করা এক অভাবনীয় ঘটনা। যদিও জামায়াত অতীতে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, তবে এবার একটি বৃহৎ জোটের নেতৃত্ব দিয়ে তারা যে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

এই আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক নয়, বরং স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনগুলোকে তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য। কেবল ঘৃণা ও বিদ্বেষের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক কৌশল যে কতটা ভুল প্রমাণিত হতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যেসব মুসলিম দেশে দীর্ঘকাল ধরে উগ্র ধর্মনিরপেক্ষ ফ্যাসিবাদী শাসন বিদ্যমান ছিল, সেসব দেশেই পরবর্তীতে ইসলামপন্থীদের উত্থান ঘটেছে। আলজেরিয়া, তুরস্ক, আফগানিস্তান, মিশর সহ বিভিন্ন দেশে এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান বাংলাদেশও সেই ধারার ব্যতিক্রম নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শব্দের কারসাজি ও ক্ষমতার রাজনীতি: ভাষা যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার

রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময়কর মোড়: আগামী নির্বাচন ও পরিবর্তিত সমীকরণ

আপডেট সময় : ০৮:১৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হওয়ার শামিল। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিদ্বেষপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চা এবং চরম অসহিষ্ণুতার এক সম্মিলিত পরিণতির ফলে এমন এক বাস্তবতার জন্ম হয়েছে, যা অনেকের কাছেই হজম করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনার দাবি রাখে।

প্রথমত, দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ তকমা নিয়ে সমালোচিত জামায়াতে ইসলামী, এবার আলেম-ওলামাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ইসলামি জোটের নেতৃত্ব দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

বিষয়টিকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে দলটি একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে নিজেদের গৌরবগাথা রচনা করেছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে বারংবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেই আওয়ামী লীগ আজ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এর বিপরীতে, যাদেরকে বছরের পর বছর ধরে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ ও ‘রাজাকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এমনকি যাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে, সেই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১-দলীয় ইসলামি জোটের মূলধারার রাজনীতিতে এভাবে প্রবেশ করা এক অভাবনীয় ঘটনা। যদিও জামায়াত অতীতে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, তবে এবার একটি বৃহৎ জোটের নেতৃত্ব দিয়ে তারা যে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

এই আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক নয়, বরং স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনগুলোকে তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য। কেবল ঘৃণা ও বিদ্বেষের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক কৌশল যে কতটা ভুল প্রমাণিত হতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যেসব মুসলিম দেশে দীর্ঘকাল ধরে উগ্র ধর্মনিরপেক্ষ ফ্যাসিবাদী শাসন বিদ্যমান ছিল, সেসব দেশেই পরবর্তীতে ইসলামপন্থীদের উত্থান ঘটেছে। আলজেরিয়া, তুরস্ক, আফগানিস্তান, মিশর সহ বিভিন্ন দেশে এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান বাংলাদেশও সেই ধারার ব্যতিক্রম নয়।