ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের পথে রাশিয়া

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়ায় জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি বন্ধের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ, এমন অভিযোগ তুলেছে অ্যাপটির মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি,এই পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশটির এক কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাপে সরিয়ে নেওয়া। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, মেটা যদি রুশ আইন মেনে সংলাপে আসে, তাহলে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারে। তবে আইন না মানলে তাদের “কোনো সুযোগ নেই” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাশিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকমনাদজোর ইতোমধ্যে টেলিগ্রাম অ্যাপের ওপরও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে।

রাশিয়ার দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম দুই প্ল্যাটফর্মই ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশে সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা মানেনি। তবে হোয়াটসঅ্যাপ বলছে, ১০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীকে নিরাপদ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা মূলত পেছন দিকে হাঁটারই শামিল।

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে। ২০২২ সালে মেটাকে ‘চরমপন্থী সংগঠন’ ঘোষণার পর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রাশিয়ায় নিষিদ্ধ হয়; সেগুলো এখন কেবল ভিপিএনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।

ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা বলছেন, রসকমনাদজোর ধীরে ধীরে বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইটকে জাতীয় ডোমেইন সিস্টেম থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। ইউটিউব, বিবিসি, ডয়চে ভেলে, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবও এর বাইরে নেই ফলে ভিপিএন ছাড়া অনেক সাইট খোলা যাচ্ছে না।

সমালোচকদের মতে, মস্কো নাগরিকদের রাষ্ট্র-উন্নীত ‘ম্যাক্স’ অ্যাপ ব্যবহারে বাধ্য করতে চাইছে, যেখানে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে নতুন ডিভাইসে এই অ্যাপ প্রি-ইনস্টল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদেরও এটি ব্যবহারে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে খবর রয়েছে।

টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী পাভেল দুরভ অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও রাজনৈতিক সেন্সরশিপ জোরদার করতেই এই বিধিনিষেধ। তার ভাষ্যমতে, “নাগরিকের স্বাধীনতা সীমিত করা কখনোই সঠিক সমাধান নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল কারা ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ, মুন্সিগঞ্জে চালু দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস কারাগার’

হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের পথে রাশিয়া

আপডেট সময় : ০৫:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাশিয়ায় জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি বন্ধের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ, এমন অভিযোগ তুলেছে অ্যাপটির মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি,এই পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশটির এক কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাপে সরিয়ে নেওয়া। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, মেটা যদি রুশ আইন মেনে সংলাপে আসে, তাহলে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারে। তবে আইন না মানলে তাদের “কোনো সুযোগ নেই” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাশিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকমনাদজোর ইতোমধ্যে টেলিগ্রাম অ্যাপের ওপরও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে।

রাশিয়ার দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম দুই প্ল্যাটফর্মই ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশে সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা মানেনি। তবে হোয়াটসঅ্যাপ বলছে, ১০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীকে নিরাপদ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা মূলত পেছন দিকে হাঁটারই শামিল।

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে। ২০২২ সালে মেটাকে ‘চরমপন্থী সংগঠন’ ঘোষণার পর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রাশিয়ায় নিষিদ্ধ হয়; সেগুলো এখন কেবল ভিপিএনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।

ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা বলছেন, রসকমনাদজোর ধীরে ধীরে বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইটকে জাতীয় ডোমেইন সিস্টেম থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। ইউটিউব, বিবিসি, ডয়চে ভেলে, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবও এর বাইরে নেই ফলে ভিপিএন ছাড়া অনেক সাইট খোলা যাচ্ছে না।

সমালোচকদের মতে, মস্কো নাগরিকদের রাষ্ট্র-উন্নীত ‘ম্যাক্স’ অ্যাপ ব্যবহারে বাধ্য করতে চাইছে, যেখানে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে নতুন ডিভাইসে এই অ্যাপ প্রি-ইনস্টল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদেরও এটি ব্যবহারে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে খবর রয়েছে।

টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী পাভেল দুরভ অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও রাজনৈতিক সেন্সরশিপ জোরদার করতেই এই বিধিনিষেধ। তার ভাষ্যমতে, “নাগরিকের স্বাধীনতা সীমিত করা কখনোই সঠিক সমাধান নয়।