বাংলাদেশের গণমাধ্যমে রাজনৈতিক সাংবাদিকতার নামে কী ঘটছে, তা নিয়ে সম্প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একজন বিশ্লেষক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত শিরোনামের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে শব্দচয়ন সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির হাতিয়ার হয়ে উঠছে। যেমন, কলকাতা বিমানবন্দরে অভিনেতা মোশাররফ করিমকে নিয়ে একটি খবরে ‘আওয়ামী লীগের তোপের মুখে’ এমন শিরোনাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা একপেশে মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, যখন দেশে কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সুবিধাভোগী বা নির্যাতকদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পায়, তখন একই গণমাধ্যমগুলো সেই জনতাকে ‘মব’ বা ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এই শব্দচয়নের রাজনীতিকে যারা সাংবাদিকতা বলেন, বিশ্লেষকের মতে, তারা কেবল অসাধু নন, বরং মূর্খ। তিনি মনে করেন, এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট শব্দপ্রয়োগ প্রমাণ করে যে এটি সাংবাদিকতা নয়, বরং এক ধরনের রাজনৈতিক চাল।
বিশ্লেষক আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের অপসাংবাদিকতা বা রাজনৈতিক সাংবাদিকতা গণমাধ্যম কর্মীদের হত্যা, নির্যাতন এবং বিচারহীনতার পক্ষে কাজ করে। এটি নীতি ও মূল্যবোধহীন সাংবাদিকতা, যা নির্যাতকদের পক্ষ অবলম্বন করে। তার মতে, এমন সাংবাদিকতা যারা করেন, তারা মূলত ‘চোরের সাক্ষী গাঁটকাটা’র মতো কাজ করেন, যেখানে প্রকৃত ঘটনা চাপা পড়ে যায় শব্দচয়নের আড়ালে।
নিজের উদাহরণ টেনে বিশ্লেষক ২০১৮ সালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যখন তিনি ‘মব জাস্টিস’-এর বিরুদ্ধে লিখেছিলেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক যুবকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনির ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি জনপ্রিয় গণমাধ্যম প্রিয় ডটকমে লিখেছিলেন, “মোহাম্মদপুরের ঘটনায় যারা প্রতিরোধ করতে গিয়ে ‘মবে’ অংশ নিয়েছেন, সঙ্গে যারা তাল মিলিয়ে বলেছেন, ‘পিটিয়ে ঠিক করেছে, শালাকে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো না কেন’—তাদের এমন কথাগুলোও অপরাধের অংশ।” তিনি বিনাবিচারে হত্যা সমর্থনকারী এবং মানুষের মৃত্যু কামনা করা অসহিষ্ণু ব্যক্তিদের একই কাতারে ফেলে সমালোচনা করেন, যারা ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডেরও সমর্থক। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা ‘মব জাস্টিস’, অসহিষ্ণু সমাজ এবং বিচারহীনতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
রিপোর্টারের নাম 

























