ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক এআই ভিডিওতে বিভ্রান্তির শঙ্কা: বিবিসি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক ভিডিওর ব্যাপক বিস্তার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত জানুয়ারি থেকে ফেসবুকজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শত শত এআই-নির্মিত ভিডিও, যেগুলোর বড় অংশেই কোথাও উল্লেখ নেই যে সেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এই ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে বাস্তবের মতো দেখতে কিন্তু সম্পূর্ণ কল্পিত সংবাদ উপস্থাপক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মিত ‘সাধারণ নাগরিক’, এমনকি পুলিশের মতো পোশাক পরা ব্যক্তিরাও। ভিডিওগুলোর নির্মাণমান এতটাই নিখুঁত যে প্রথম দেখায় সেগুলোকে সত্যিকারের খবর বা সাক্ষাৎকার বলেই মনে হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরো জানানো হয়, তারা গুগলের নিজস্ব এআই শনাক্তকারী টুল ‘সিনথআইডি’ ব্যবহার করে একটি ভিডিও যাচাই করেছে, যা প্রায় ৮০ লাখবার দেখা হয়েছে। ওই ভিডিওতে নীল রঙের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তিকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে দেখা যায়, যিনি দেখতে কোনো সরকারি কর্মকর্তার মতোই।

আরেকটি বহুল প্রচারিত ভিডিও, যেটি প্রায় দুই লাখবার দেখা হয়েছে, তাতে এক কৃত্রিম দোকানদারকে ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়, কেন তিনি একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। ভিডিওটি বাস্তব মানুষের বক্তব্য বলে সহজেই ভুল বোঝানো সম্ভব।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের এআই ভিডিও সাধারণ ভোটারের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন সেগুলো স্পষ্টভাবে ‘সিনথেটিক’ বা কৃত্রিম হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না।

বাংলাদেশের নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া এআইজাত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ। তবে অনলাইনে এই বিধিনিষেধ কীভাবে নজরদারি করা হচ্ছে বা প্রয়োগ করা হচ্ছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এআই প্রযুক্তি যত সহজলভ্য হচ্ছে, ততোই তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব বাড়ছে। ভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে এই ধরনের কনটেন্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল কারা ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ, মুন্সিগঞ্জে চালু দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস কারাগার’

বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক এআই ভিডিওতে বিভ্রান্তির শঙ্কা: বিবিসি

আপডেট সময় : ০৫:২৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক ভিডিওর ব্যাপক বিস্তার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত জানুয়ারি থেকে ফেসবুকজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শত শত এআই-নির্মিত ভিডিও, যেগুলোর বড় অংশেই কোথাও উল্লেখ নেই যে সেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এই ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে বাস্তবের মতো দেখতে কিন্তু সম্পূর্ণ কল্পিত সংবাদ উপস্থাপক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মিত ‘সাধারণ নাগরিক’, এমনকি পুলিশের মতো পোশাক পরা ব্যক্তিরাও। ভিডিওগুলোর নির্মাণমান এতটাই নিখুঁত যে প্রথম দেখায় সেগুলোকে সত্যিকারের খবর বা সাক্ষাৎকার বলেই মনে হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরো জানানো হয়, তারা গুগলের নিজস্ব এআই শনাক্তকারী টুল ‘সিনথআইডি’ ব্যবহার করে একটি ভিডিও যাচাই করেছে, যা প্রায় ৮০ লাখবার দেখা হয়েছে। ওই ভিডিওতে নীল রঙের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তিকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে দেখা যায়, যিনি দেখতে কোনো সরকারি কর্মকর্তার মতোই।

আরেকটি বহুল প্রচারিত ভিডিও, যেটি প্রায় দুই লাখবার দেখা হয়েছে, তাতে এক কৃত্রিম দোকানদারকে ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়, কেন তিনি একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। ভিডিওটি বাস্তব মানুষের বক্তব্য বলে সহজেই ভুল বোঝানো সম্ভব।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের এআই ভিডিও সাধারণ ভোটারের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন সেগুলো স্পষ্টভাবে ‘সিনথেটিক’ বা কৃত্রিম হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না।

বাংলাদেশের নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া এআইজাত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ। তবে অনলাইনে এই বিধিনিষেধ কীভাবে নজরদারি করা হচ্ছে বা প্রয়োগ করা হচ্ছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এআই প্রযুক্তি যত সহজলভ্য হচ্ছে, ততোই তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব বাড়ছে। ভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে এই ধরনের কনটেন্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।