দেশের নারী ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘উইমেন্স বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ’ (ডব্লিউবিপিএল)। আগামী ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরের মাধ্যমে দেশের নারী ক্রিকেটে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। গতকাল এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।
বিসিবির তথ্যমতে, উদ্বোধনী এই আসরে মোট তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল অংশ নেবে। আগামী ৩ এপ্রিল পর্দা উঠে ১৫ এপ্রিল ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১২ দিনের এই ক্রিকেটযজ্ঞ। টুর্নামেন্টের দল গঠনের জন্য প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে দেশি ক্রিকেটারদের বেছে নেবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তবে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নারী বিপিএল পরিচালনার জন্য গঠিত গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান রুবাবা দৌলা। এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “তিনটি দল নিয়ে আমরা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছি। এটি আমাদের মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য এক বিশাল সুযোগ। দলগুলো চাইলে নিজেদের প্রয়োজনে বিদেশি ক্রিকেটারও দলে ভেড়াতে পারবে।”
স্পন্সর এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রুবাবা দৌলা আরও জানান, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করছে। ফলে বিনিয়োগকারী বা স্পন্সর পেতে কোনো সমস্যা হবে না বলেই তার বিশ্বাস। তিনি এমন মালিকদের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী, যারা কেবল সাময়িক নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান।
এদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই টুর্নামেন্টের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তিনি জানান, কয়েক বছর ধরেই নারী বিপিএল আয়োজনের আলোচনা চলছিল। গত বছর আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের তারিখ ও পরিকল্পনা ঘোষিত হওয়ায় নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। অধিনায়ক মনে করেন, এই টুর্নামেন্ট দেশের নারী ক্রিকেটের মানোন্নয়নে ও নতুন প্রতিভা অন্বেষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 





















