ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

সিরাজগঞ্জে থানা লুটের ৮ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বড় চ্যালেঞ্জ, নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় হামলা চালিয়ে লুট হওয়া আটটি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই অস্ত্রগুলোর কোনো হদিস না মেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ ও শঙ্কা বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করছে, উদ্ধার না হওয়া এই অস্ত্রগুলো নির্বাচনী সহিংসতা উস্কে দিতে পারে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, দেশব্যাপী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় থানা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। দীর্ঘ এই সময়েও লুট হওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে।

হাটুকিমরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, ঠিক কতগুলো অস্ত্র লুট হয়েছিল, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে চারটি চায়না রাইফেল, দুটি পিস্তল এবং দুটি গ্যাসগানসহ মোট আটটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেড় শতাধিক গুলি রয়েছে। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে এবং ঘটনার পর থেকেই অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ঠিক কতগুলো অস্ত্র লুট হয়েছিল, তা নির্দিষ্ট করে এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। এই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে যদি লুট হওয়া অস্ত্রগুলো দ্রুত উদ্ধার করা না হয়, তাহলে নির্বাচনী সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।

হাটুকিমরুল এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত না হলে ভোটকেন্দ্রে যেতে তারা ভয় পেতে পারেন। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। সচেতন মহল বলছে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিলম্ব পুরো জেলার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়: ড. ইউনূসসহ উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে থানা লুটের ৮ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বড় চ্যালেঞ্জ, নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় হামলা চালিয়ে লুট হওয়া আটটি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই অস্ত্রগুলোর কোনো হদিস না মেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ ও শঙ্কা বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করছে, উদ্ধার না হওয়া এই অস্ত্রগুলো নির্বাচনী সহিংসতা উস্কে দিতে পারে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, দেশব্যাপী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় থানা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। দীর্ঘ এই সময়েও লুট হওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে।

হাটুকিমরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, ঠিক কতগুলো অস্ত্র লুট হয়েছিল, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে চারটি চায়না রাইফেল, দুটি পিস্তল এবং দুটি গ্যাসগানসহ মোট আটটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেড় শতাধিক গুলি রয়েছে। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে এবং ঘটনার পর থেকেই অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ঠিক কতগুলো অস্ত্র লুট হয়েছিল, তা নির্দিষ্ট করে এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। এই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে যদি লুট হওয়া অস্ত্রগুলো দ্রুত উদ্ধার করা না হয়, তাহলে নির্বাচনী সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।

হাটুকিমরুল এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত না হলে ভোটকেন্দ্রে যেতে তারা ভয় পেতে পারেন। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। সচেতন মহল বলছে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিলম্ব পুরো জেলার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।