ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ফিফা সভাপতির নতুন পরিকল্পনা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে: বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদার বিক্রির প্রস্তাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ফুটবল প্রশাসনের শীর্ষ পদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বচ্ছতা, সংস্কার এবং পরিবর্তনের এক জোরালো প্রতিশ্রুতি নিয়ে। ২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের দুর্নীতিগ্রস্ত অধ্যায়ের পর তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন নতুন এক ফিফা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। কিন্তু প্রায় এক দশক পর, সেই ইনফান্তিনোই এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে ক্লাব বিশ্বকাপের আমূল পরিবর্তন, রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ; একের পর এক বিতর্ক যেন তার পিছু ছাড়ছে না। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদার বিক্রির এক বিতর্কিত পরিকল্পনা।

সম্প্রতি ফিফা ঘোষণা করেছে যে, তারা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস (এফএফই)’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করবে। এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিফার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই অর্থ সদস্য দেশগুলোর উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে কি কর্পোরেট বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়াটাই সঠিক পথ?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো ভবিষ্যৎই দেবে, তবে ইনফান্তিনোর পূর্ববর্তী আমলের বিভিন্ন সিদ্ধান্তও সমানভাবে বিতর্কে পরিপূর্ণ ছিল। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই ইনফান্তিনো সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের মান, ভিএআর-এর ব্যবহার, টিকিটের উচ্চমূল্য এবং বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। এর আগেও ক্লাব বিশ্বকাপকে ৩২ দলে সম্প্রসারণ, বিশ্বকাপকে ৪৮ দলে উন্নীত করা এবং ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের মতো সিদ্ধান্তগুলোও ইনফান্তিনোকে সমালোচনার মুখে ফেলেছিল। এবার এই নতুন পরিকল্পনা নিয়েও তিনি বিতর্কের ফাঁদে পা দিয়েছেন। জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল-এর প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। এই সূত্র ধরে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এই সকল পরিস্থিতি প্রশ্ন তুলছে—ফুটবল কি কেবলই আরেকটি ব্যবসায়িক পণ্য, নাকি কোটি মানুষের আবেগের নাম? ইনফান্তিনো এটিকে বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সমালোচকদের চোখে, এটি ফুটবলের আত্মাকেই বাজারে তোলার প্রথম বড় পদক্ষেপ। সেপ ব্লাটারের পর ফিফার যে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছিল, তা কি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের পরেই তেহরানের কৌশলগত পরিবর্তন, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

ফিফা সভাপতির নতুন পরিকল্পনা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে: বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদার বিক্রির প্রস্তাব

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ফুটবল প্রশাসনের শীর্ষ পদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বচ্ছতা, সংস্কার এবং পরিবর্তনের এক জোরালো প্রতিশ্রুতি নিয়ে। ২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের দুর্নীতিগ্রস্ত অধ্যায়ের পর তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন নতুন এক ফিফা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। কিন্তু প্রায় এক দশক পর, সেই ইনফান্তিনোই এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে ক্লাব বিশ্বকাপের আমূল পরিবর্তন, রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ; একের পর এক বিতর্ক যেন তার পিছু ছাড়ছে না। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদার বিক্রির এক বিতর্কিত পরিকল্পনা।

সম্প্রতি ফিফা ঘোষণা করেছে যে, তারা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস (এফএফই)’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করবে। এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিফার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই অর্থ সদস্য দেশগুলোর উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে কি কর্পোরেট বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়াটাই সঠিক পথ?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো ভবিষ্যৎই দেবে, তবে ইনফান্তিনোর পূর্ববর্তী আমলের বিভিন্ন সিদ্ধান্তও সমানভাবে বিতর্কে পরিপূর্ণ ছিল। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই ইনফান্তিনো সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের মান, ভিএআর-এর ব্যবহার, টিকিটের উচ্চমূল্য এবং বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। এর আগেও ক্লাব বিশ্বকাপকে ৩২ দলে সম্প্রসারণ, বিশ্বকাপকে ৪৮ দলে উন্নীত করা এবং ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের মতো সিদ্ধান্তগুলোও ইনফান্তিনোকে সমালোচনার মুখে ফেলেছিল। এবার এই নতুন পরিকল্পনা নিয়েও তিনি বিতর্কের ফাঁদে পা দিয়েছেন। জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল-এর প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। এই সূত্র ধরে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এই সকল পরিস্থিতি প্রশ্ন তুলছে—ফুটবল কি কেবলই আরেকটি ব্যবসায়িক পণ্য, নাকি কোটি মানুষের আবেগের নাম? ইনফান্তিনো এটিকে বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সমালোচকদের চোখে, এটি ফুটবলের আত্মাকেই বাজারে তোলার প্রথম বড় পদক্ষেপ। সেপ ব্লাটারের পর ফিফার যে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছিল, তা কি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল?