ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নোয়াখালীর সেনবাগে ‘সুন্দরপুর-৪’ গ্যাস কূপের খনন কাজ শুরু: দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা

নোয়াখালীর সেনবাগে ‘সুন্দরপুর-৪’ নামে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন গ্যাস কূপের খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে এই কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের জোরালো সম্ভাবনা দেখছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড)।

বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) ও ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কূপটি সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। তবে এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাস ফিল্ডের অংশ হওয়ায় এর নাম রাখা হয়েছে ‘সুন্দরপুর-৪’। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের ১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন কূপটি সুন্দরপুর-২ কূপ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে হলেও একই রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই নামকরণ করা হয়েছে।

কূপের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান জানান, কূপটির লক্ষ্যমাত্রিক গভীরতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার। প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরে সম্ভাব্য গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে খনন কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে। সব মিলিয়ে আড়াই মাসের মধ্যে কূপটির চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গ্যাসের মোট মজুত নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও আশপাশের কূপগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বাপেক্স আশা করছে, এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যেতে পারে। কূপটি সফল হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক কিসমত খন্দকার আর নেই: গণমাধ্যমে শোকের ছায়া

নোয়াখালীর সেনবাগে ‘সুন্দরপুর-৪’ গ্যাস কূপের খনন কাজ শুরু: দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১০:১৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

নোয়াখালীর সেনবাগে ‘সুন্দরপুর-৪’ নামে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন গ্যাস কূপের খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে এই কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের জোরালো সম্ভাবনা দেখছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড)।

বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) ও ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কূপটি সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। তবে এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাস ফিল্ডের অংশ হওয়ায় এর নাম রাখা হয়েছে ‘সুন্দরপুর-৪’। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের ১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন কূপটি সুন্দরপুর-২ কূপ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে হলেও একই রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই নামকরণ করা হয়েছে।

কূপের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান জানান, কূপটির লক্ষ্যমাত্রিক গভীরতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার। প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরে সম্ভাব্য গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে খনন কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে। সব মিলিয়ে আড়াই মাসের মধ্যে কূপটির চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গ্যাসের মোট মজুত নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও আশপাশের কূপগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বাপেক্স আশা করছে, এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যেতে পারে। কূপটি সফল হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।