ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

গর্ভবতী নারীর ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে বাউফলে জামায়াতের বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক গর্ভবতী নারীর ওপর নৃশংস হামলা এবং নারী ও জামায়াত-সমর্থিত কর্মীদের হেনস্তার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। সোমবার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) বেলা ১১টায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

বিস্তারিত:

বিক্ষোভ মিছিলটি জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে বাউফল উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। বিপুল সংখ্যক নারী এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

মিছিল শেষে আয়োজিত এক সমাবেশে ডা. জাকিয়া ফারহানা বলেন, “আমরা প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন এবং নারী অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একজন গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারার মতো বর্বর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এই ঘটনার প্রতিবাদে যারা নীরব রয়েছেন, তাদের প্রতি ধিক্কার।” তিনি আরও বলেন, “নারীরা যাতে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভয় দেখিয়ে বা হামলা চালিয়ে আমাদের দমন করা যাবে না। নারীরা অতীতের ‘জুলাই বিপ্লবে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে; হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদের ঘরে আটকে রাখা সম্ভব নয়।”

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “মা-বোনদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না। আমাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।” তিনি উপস্থিত নারীদের আগামী ১২ তারিখ (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং তাদের নিরাপত্তায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

জামায়াত সূত্র থেকে জানা গেছে, গত রবিবার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি নির্বাচনী মিছিল চলাকালে বিএনপির একটি অংশ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মারধর ও হামলার শিকার হন। ঘটনার ফলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাউফল থানার ওসির পদত্যাগের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে স্থানীয় থানা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

গর্ভবতী নারীর ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে বাউফলে জামায়াতের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক গর্ভবতী নারীর ওপর নৃশংস হামলা এবং নারী ও জামায়াত-সমর্থিত কর্মীদের হেনস্তার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। সোমবার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) বেলা ১১টায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

বিস্তারিত:

বিক্ষোভ মিছিলটি জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে বাউফল উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। বিপুল সংখ্যক নারী এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

মিছিল শেষে আয়োজিত এক সমাবেশে ডা. জাকিয়া ফারহানা বলেন, “আমরা প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন এবং নারী অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একজন গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারার মতো বর্বর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এই ঘটনার প্রতিবাদে যারা নীরব রয়েছেন, তাদের প্রতি ধিক্কার।” তিনি আরও বলেন, “নারীরা যাতে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভয় দেখিয়ে বা হামলা চালিয়ে আমাদের দমন করা যাবে না। নারীরা অতীতের ‘জুলাই বিপ্লবে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে; হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদের ঘরে আটকে রাখা সম্ভব নয়।”

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “মা-বোনদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না। আমাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।” তিনি উপস্থিত নারীদের আগামী ১২ তারিখ (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং তাদের নিরাপত্তায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

জামায়াত সূত্র থেকে জানা গেছে, গত রবিবার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি নির্বাচনী মিছিল চলাকালে বিএনপির একটি অংশ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মারধর ও হামলার শিকার হন। ঘটনার ফলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাউফল থানার ওসির পদত্যাগের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে স্থানীয় থানা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।