ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সংশোধিত তামাক আইন বাস্তবায়নে দ্রুত বিধিমালার দাবি, ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান

বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং ক্ষতিকর ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় আইনটির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর অবসর ভবনে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়। সভায় সমিতির প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার রয়েছে। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বার্তায়ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সমিতির সচিব (অব.) মো. শামসুল আলম খান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসের (এইচটিপি) ওপর কর আরোপের ফলে এসব পণ্য বাজারে বৈধতা ও প্রসারের সুযোগ পাচ্ছে। এতে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সমিতির পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। এই অবস্থায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় বক্তারা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) প্রণয়নের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লার তিতাসে টেঁটাযুদ্ধে নারী নিহত: ৬১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার ৫

সংশোধিত তামাক আইন বাস্তবায়নে দ্রুত বিধিমালার দাবি, ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং ক্ষতিকর ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় আইনটির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর অবসর ভবনে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়। সভায় সমিতির প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার রয়েছে। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বার্তায়ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সমিতির সচিব (অব.) মো. শামসুল আলম খান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসের (এইচটিপি) ওপর কর আরোপের ফলে এসব পণ্য বাজারে বৈধতা ও প্রসারের সুযোগ পাচ্ছে। এতে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সমিতির পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। এই অবস্থায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় বক্তারা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) প্রণয়নের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।