বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে গণভোটের রায় কার্যকরের বিষয়টি অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই রায় বাস্তবায়নের জন্য জোরালো দাবি জানাচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু না হলেও, বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য কর্মপন্থা নিয়ে গভীর পর্যালোচনা চলছে। এই পর্যালোচনায় মূলত তিনটি পদ্ধতির কথা সামনে আসছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সংবিধান পুনর্লিখন।
সংবিধান পুনর্লিখনের প্রক্রিয়া হিসেবে ‘গণপরিষদ’ গঠনের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। এই গণপরিষদের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হবে, যা মূলত জুলাই সনদ মেনেই তৈরি হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭২ সালে এমন একটি গণপরিষদ গঠিত হয়েছিল, যা সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য একটি নতুন সংবিধান রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
তবে, ১৯৭২ সালের গণপরিষদের বৈধতা নিয়ে একটি আইনি প্রশ্ন আজও রয়ে গেছে। কারণ, সেই গণপরিষদ বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত হয়নি, বরং তা গঠিত হয়েছিল অবিভক্ত পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে। যদিও আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল, কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেই গণরায় মেনে না নেওয়ার ফলেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফলকেই ভিত্তি ধরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের গণপরিষদের সদস্য হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং সেই অনুযায়ী গণপরিষদ গঠিত হয়।
সুতরাং, ১৯৭০ সালের পাকিস্তান আমলের নির্বাচনের মাধ্যমে অর্জিত গণরায়ের ভিত্তিতে গঠিত পরিষদ দ্বারা স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচিত ও প্রবর্তিত হওয়া, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ আইনি দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















