ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

‘ধানের শীষই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’: বনানীর জনসভায় তারেক রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বনানীতে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পুনর্গঠনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি নারী, কৃষক, তরুণ ও ধর্মীয় নেতাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীকরণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়ার কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বনানীই তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের জন্মস্থান। তাঁদের পরিবার ও সন্তানদের জন্মও এই এলাকাতেই। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁদের একটি গভীর পারিবারিক, মানসিক ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় এই এলাকাতেই কাটিয়েছেন এবং এখান থেকেই তাঁর বিদায়। এলাকার মানুষের সঙ্গে এই গভীর সম্পর্ক তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করেছে।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায় এবং বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রতি সারা দেশের মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। জনগণের এসব প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিএনপি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা দলের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ।

তিনি জানান, আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার গঠন করতে পারলে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীকরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে পর্যায়ক্রমে গৃহিণী ও মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারী শিক্ষার প্রসারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষিত ও প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হবে।

কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষিই বাংলাদেশের প্রধান পেশা এবং কোটি কোটি মানুষ এর সঙ্গে জড়িত। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো বিএনপির অন্যতম অঙ্গীকার। তিনি জানান, সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন এবং এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তরুণ সমাজের বেকারত্বকে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য। এছাড়াও, ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ইরানের

‘ধানের শীষই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’: বনানীর জনসভায় তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০১:০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর বনানীতে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পুনর্গঠনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি নারী, কৃষক, তরুণ ও ধর্মীয় নেতাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীকরণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়ার কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বনানীই তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের জন্মস্থান। তাঁদের পরিবার ও সন্তানদের জন্মও এই এলাকাতেই। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁদের একটি গভীর পারিবারিক, মানসিক ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় এই এলাকাতেই কাটিয়েছেন এবং এখান থেকেই তাঁর বিদায়। এলাকার মানুষের সঙ্গে এই গভীর সম্পর্ক তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করেছে।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায় এবং বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রতি সারা দেশের মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। জনগণের এসব প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিএনপি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা দলের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ।

তিনি জানান, আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার গঠন করতে পারলে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীকরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে পর্যায়ক্রমে গৃহিণী ও মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারী শিক্ষার প্রসারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষিত ও প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হবে।

কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষিই বাংলাদেশের প্রধান পেশা এবং কোটি কোটি মানুষ এর সঙ্গে জড়িত। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো বিএনপির অন্যতম অঙ্গীকার। তিনি জানান, সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন এবং এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তরুণ সমাজের বেকারত্বকে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য। এছাড়াও, ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান।