ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পাবনার উন্নয়নে ১৮০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প: বদলে যাবে জেলার চিত্র

পাবনা জেলার গ্রামীণ ও পৌর অবকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজার অবকাঠামো, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সুবিধায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি ‘পাবনা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে পরিচিত এবং এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জেলার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, আধুনিক বাজার ও ঘাটলা স্থাপন, রেল ক্রসিং নির্মাণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

এছাড়াও, পাবনা শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পৌর এলাকার সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য এলজিইডির অধীনে একটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণের কাজও চলছে। পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিশেষ তৎপরতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় এই মেগা উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প পাবনার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করবে। গ্রামীণ যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো ও হাট-বাজারের উন্নয়ন হলে ব্যবসার পরিধি বাড়বে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য ও মালামাল সহজে এবং কম খরচে শহরে চলে আসবে। এছাড়াও, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কষ্ট দূর হবে। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, পাবনা একটি পুরোনো জেলা হলেও দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামীণ রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং কৃষকদের ফসল পরিবহনে দ্বিগুণ খরচ হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা সহজ হবে এবং কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন।

পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম প্রকল্পের কারিগরি অগ্রগতির বিষয়ে জানান, জেলার গ্রামীণ ও পৌর অবকাঠামোর টেকসই রূপান্তরের জন্য এই দুটি প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এমপি জহিরুল ইসলামের আহ্বান

পাবনার উন্নয়নে ১৮০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প: বদলে যাবে জেলার চিত্র

আপডেট সময় : ০৯:১৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পাবনা জেলার গ্রামীণ ও পৌর অবকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজার অবকাঠামো, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সুবিধায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি ‘পাবনা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে পরিচিত এবং এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জেলার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, আধুনিক বাজার ও ঘাটলা স্থাপন, রেল ক্রসিং নির্মাণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

এছাড়াও, পাবনা শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পৌর এলাকার সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য এলজিইডির অধীনে একটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণের কাজও চলছে। পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিশেষ তৎপরতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় এই মেগা উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প পাবনার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করবে। গ্রামীণ যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো ও হাট-বাজারের উন্নয়ন হলে ব্যবসার পরিধি বাড়বে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য ও মালামাল সহজে এবং কম খরচে শহরে চলে আসবে। এছাড়াও, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কষ্ট দূর হবে। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, পাবনা একটি পুরোনো জেলা হলেও দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামীণ রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং কৃষকদের ফসল পরিবহনে দ্বিগুণ খরচ হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা সহজ হবে এবং কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন।

পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম প্রকল্পের কারিগরি অগ্রগতির বিষয়ে জানান, জেলার গ্রামীণ ও পৌর অবকাঠামোর টেকসই রূপান্তরের জন্য এই দুটি প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।