ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ছাতকে অবৈধ মাটি উত্তোলন: সাবেক ইউপি সদস্যের ৬ মাসের কারাদণ্ড, আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মনির উদ্দিন তালুকদার। এ সময় তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষিবাউর এলাকার নাইন্দার হাওরে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষিবাউর এলাকার নাইন্দার হাওরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থল থেকে মনির উদ্দিন তালুকদার ও তার সহযোগী সাজিদ মিয়াকে আটক করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মনির উদ্দিন তালুকদার নোয়ারাই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এবং লক্ষিবাউর গ্রামের মৃত আলতাব আলী তালুকদারের ছেলে। আটককৃত সাজিদ মিয়া কাড়ইলগাঁও গ্রামের মত্তকিন আলীর ছেলে এবং একটি মাটি কাটার যন্ত্রের (এক্সকাভেটর) চালক হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, নাইন্দার হাওর এলাকার সরকারি খাসজমি ও ফসলি জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে উপরিস্তরের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছিল। এই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে এবং কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট করে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ মাটি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন এবং ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি জব্দ করার নির্দেশ দেন। ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাহিদুল ইসলাম এই অভিযানের বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, ফসলি জমি ও সরকারি খাসজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি আরও বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা বালু ও মাটি উত্তোলন এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ দেশ ও জোটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তদন্ত: তালিকায় বাংলাদেশ

ছাতকে অবৈধ মাটি উত্তোলন: সাবেক ইউপি সদস্যের ৬ মাসের কারাদণ্ড, আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মনির উদ্দিন তালুকদার। এ সময় তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষিবাউর এলাকার নাইন্দার হাওরে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষিবাউর এলাকার নাইন্দার হাওরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থল থেকে মনির উদ্দিন তালুকদার ও তার সহযোগী সাজিদ মিয়াকে আটক করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মনির উদ্দিন তালুকদার নোয়ারাই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এবং লক্ষিবাউর গ্রামের মৃত আলতাব আলী তালুকদারের ছেলে। আটককৃত সাজিদ মিয়া কাড়ইলগাঁও গ্রামের মত্তকিন আলীর ছেলে এবং একটি মাটি কাটার যন্ত্রের (এক্সকাভেটর) চালক হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, নাইন্দার হাওর এলাকার সরকারি খাসজমি ও ফসলি জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে উপরিস্তরের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছিল। এই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে এবং কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট করে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ মাটি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন এবং ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি জব্দ করার নির্দেশ দেন। ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাহিদুল ইসলাম এই অভিযানের বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, ফসলি জমি ও সরকারি খাসজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি আরও বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা বালু ও মাটি উত্তোলন এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।