উৎপাদন খাতে ‘অতিরিক্ত সক্ষমতা’ (Overcapacity) ও ‘অতিরিক্ত উৎপাদনের’ (Overproduction) অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৫টি দেশ এবং একটি শক্তিশালী জোটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) অর্থনীতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, এসব দেশের বিশেষ কিছু অর্থনৈতিক নীতি ও কার্যক্রম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বুধবার (১১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য আলোচনাকারী সংস্থা ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (USTR)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের বিখ্যাত ‘ধারা ৩০১’ (Section 301) অনুযায়ী এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মূলত অন্যায্য বিদেশি বাণিজ্য চর্চার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এই কঠোর আইন ব্যবহার করে ওয়াশিংটন।
তদন্তের আওতায় থাকা দেশ ও জোটগুলো: তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি এশিয়ার বড় অর্থনীতির দেশগুলো রয়েছে। দেশগুলো হলো—
- এশিয়া: চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এবং বাংলাদেশ।
- ইউরোপ ও অন্যান্য: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে এবং মেক্সিকো।
বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আর এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না যেখানে অন্য দেশগুলো তাদের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সমস্যাকে রপ্তানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপিয়ে দেয়। তিনি বলেন, “এতে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং উৎপাদন খাতে আমাদের বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ হারিয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) আবার দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
পরবর্তী ধাপ ও সময়সীমা: ইউএসটিআর জানিয়েছে, এই তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো হলো:
- ১৭ মার্চ: মতামত জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু।
- ১৫ এপ্রিল: লিখিত মতামত জমা দেওয়ার শেষ সময়।
- ৫ মে: তদন্ত সংক্রান্ত গণশুনানি শুরু।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১ অনুযায়ী, যদি কোনো দেশের বাণিজ্য নীতি ‘অযৌক্তিক’ বা ‘বৈষম্যমূলক’ প্রমাণিত হয় এবং তা মার্কিন বাণিজ্যের ওপর বোঝা সৃষ্টি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপসহ বিভিন্ন কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি খাতের ওপর এই তদন্তের কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এখন থেকেই দেশের ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























