চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা থাকলো না। এনসিটি পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের চলমান চুক্তির প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজের রায় বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। এর ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই টার্মিনাল পরিচালনার পথ সুগম হলো।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদনটি খারিজ করে এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই চুক্তির প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের রুল খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই সময় হাইকোর্ট জানিয়েছিল, বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তির এই চলমান প্রক্রিয়া আইনত সঠিক। পরবর্তীতে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে আজ তা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হলো।
মামলার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ৩০ জুলাই ‘বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে দাবি করা হয়েছিল, এনসিটিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও কেন তা বিদেশির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং কেন প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং বা দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে না। এই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুরুতে বিভক্ত রায় দিয়েছিলেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াটিকে অবৈধ ঘোষণা করলেও জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিটটি খারিজ করে প্রক্রিয়াটিকে বৈধ বলেন। নিয়মানুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান, যিনি গত জানুয়ারিতে রিটটি খারিজ করেন।
আজ আপিল বিভাগে শুনানিকালে রিটকারীর পক্ষে লড়েন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম এবং ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের যে পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছিল, তা বাস্তবায়নের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে এনসিটির কাজের গতি ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























