ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদের নারী কর্মীদের ভোট চাওয়ায় বাধা ও শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে ধনবাড়ী পৌর শহরে কর্নেল আজাদ সমর্থক গোষ্ঠীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হেনস্তার শিকার নারী কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব স্বতন্ত্র প্রার্থী কর্নেল আজাদের সমর্থক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে মীরা খন্দকার অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে ধনবাড়ী পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবাব বাড়ির শাহী মসজিদের দক্ষিণ পাশে ভোটারদের কাছে তালা মার্কায় ভোট চাইতে গেলে বিএনপি নেতা পলাশ তাদের বাধা দেন। পরে ফোন করে আরো কর্মী ডেকে এনে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে প্রচারে বাধা সৃষ্টি করা হয়।

শারীরিকভাবে হেনস্তার কথা উল্লেক করে মীরা খন্দকার জানান, দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রদল নেতা সাগরসহ বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর, বাবলা, ইনসানসহ কয়েকজন তাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। এ সময় গালিগালাজ, ওড়না টানা, হিজাব খুলে ফেলা ও বোরখা ধরে টানাটানির অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তালা মার্কায় ভোট না চেয়ে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, একই দিনে ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের কয়ডা এলাকার ধুঁকেরকুলে প্রচারে গিয়ে নারী কর্মী আয়েশা ও রিমা স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। এর আগেও বটতলা এলাকায় আব্দুল করিম নামের এক ব্যক্তি তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

আরেক নারী কর্মী লিপি সরকার অভিযোগ করেন, তালা মার্কার পক্ষে কাজ করার কারণে তার স্বামী ফরিদকে ধনবাড়ীর পরিবহন সেক্টরের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিলাসপুর এলাকার কাশেম ও লাভলু তাকে হুমকি ও খারাপ আচরণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম আজাদ জানান, একই দিনে মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়ার ধলপুর, কুড়াগাছার মালির বাজার ও শোলাকুড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী কর্মীদের প্রচারে বাধা, কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া, অফিস ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ধনবাড়ীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় প্রার্থীর স্ত্রীর প্রচারেও বাধা দেওয়া হয়।

তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী লে. কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম মাসুদ জানান, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগগুলোকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মহব্বত, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম ছোবহানসহ নেতারা বলেন, এলাকায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। নারীদের নাজেহাল করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ দেশ ও জোটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তদন্ত: তালিকায় বাংলাদেশ

স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদের নারী কর্মীদের ভোট চাওয়ায় বাধা ও শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে ধনবাড়ী পৌর শহরে কর্নেল আজাদ সমর্থক গোষ্ঠীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হেনস্তার শিকার নারী কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব স্বতন্ত্র প্রার্থী কর্নেল আজাদের সমর্থক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে মীরা খন্দকার অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে ধনবাড়ী পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবাব বাড়ির শাহী মসজিদের দক্ষিণ পাশে ভোটারদের কাছে তালা মার্কায় ভোট চাইতে গেলে বিএনপি নেতা পলাশ তাদের বাধা দেন। পরে ফোন করে আরো কর্মী ডেকে এনে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে প্রচারে বাধা সৃষ্টি করা হয়।

শারীরিকভাবে হেনস্তার কথা উল্লেক করে মীরা খন্দকার জানান, দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রদল নেতা সাগরসহ বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর, বাবলা, ইনসানসহ কয়েকজন তাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। এ সময় গালিগালাজ, ওড়না টানা, হিজাব খুলে ফেলা ও বোরখা ধরে টানাটানির অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তালা মার্কায় ভোট না চেয়ে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, একই দিনে ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের কয়ডা এলাকার ধুঁকেরকুলে প্রচারে গিয়ে নারী কর্মী আয়েশা ও রিমা স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। এর আগেও বটতলা এলাকায় আব্দুল করিম নামের এক ব্যক্তি তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

আরেক নারী কর্মী লিপি সরকার অভিযোগ করেন, তালা মার্কার পক্ষে কাজ করার কারণে তার স্বামী ফরিদকে ধনবাড়ীর পরিবহন সেক্টরের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিলাসপুর এলাকার কাশেম ও লাভলু তাকে হুমকি ও খারাপ আচরণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম আজাদ জানান, একই দিনে মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়ার ধলপুর, কুড়াগাছার মালির বাজার ও শোলাকুড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী কর্মীদের প্রচারে বাধা, কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া, অফিস ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ধনবাড়ীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় প্রার্থীর স্ত্রীর প্রচারেও বাধা দেওয়া হয়।

তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী লে. কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম মাসুদ জানান, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগগুলোকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মহব্বত, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম ছোবহানসহ নেতারা বলেন, এলাকায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। নারীদের নাজেহাল করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।