ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

শিল্পমুখী গবেষণায় নতুন দিগন্ত: রাবিতে দেশের প্রথম ইনকিউবেশন হাব চালু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শিল্পমুখী গবেষণা, উদ্যোক্তা তৈরি এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেশের প্রথম ‘ইনকিউবেশন হাব’ চালু হয়েছে। গত শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড প্রোটিন সায়েন্স ল্যাবরেটরি (MBPSL)-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই হাবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব এবং ল্যাবটির মূখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা।

নবপ্রতিষ্ঠিত এই ইনকিউবেশন হাব নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের জন্য একটি সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণাগুলো ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পাবে এবং টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে এই হাবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, “উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে এই ইনকিউবেশন হাব একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অধ্যাপক আবু রেজার নেতৃত্বে রাবিতে এই ল্যাবের যাত্রা শুরু হলো। আমরা আশা করছি, এই ল্যাবকে দেখে এক বছরের মধ্যে আরও অনেক ল্যাব তাদের কার্যক্রম শুরু করবে।” তিনি ল্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ইনকিউবেশন হাবের মূখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা জানান, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণাগুলোকে শিল্পমুখী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। যেসব পণ্য বর্তমানে দেশে উৎপাদিত হয় না, সেগুলো দেশেই উৎপাদন ও বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবে, তেমনি একটি কোম্পানি কীভাবে গড়ে তুলতে হয় সে সম্পর্কেও বাস্তব ধারণা লাভ করবে।

তিনি আরও বলেন, বায়োটেকনোলজির যেসব পণ্য বাংলাদেশের শত শত ল্যাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। অথচ এসব পণ্য দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। ইতিমধ্যে আটটি পণ্য তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব গবেষণাকে ইনকিউবেশন হাবে উন্নয়ন করা হবে এবং পরবর্তীতে কোম্পানিগুলো অর্থায়ন করলে সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা হবে। অধ্যাপক রেজা গবেষণাগারগুলোকে টেকসই করার ক্ষেত্রে ইনকিউবেশন হাবকে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও মূলত সার্টিফিকেটনির্ভর। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের মেধা কাজে লাগিয়ে দেশেই বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন সম্ভব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনকিউবেশন হাবে উৎপাদিত পণ্যগুলো প্রথম পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগে বিনামূল্যে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার, আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন ও অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল হক, ইনকিউবেশন হাবের সহযোগী গবেষক ড. খন্দকার মো. খালিদ-বিন-ফেরদৌস, ইনভেন্ট টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজাউল হালিম এবং মহাব্যবস্থাপক শেখ মো. সেলিম আল-দিন সহ অন্যান্য শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মার্চ: টিভি পর্দায় ক্রিকেট-ফুটবলের ডাবল ধামাকা!

শিল্পমুখী গবেষণায় নতুন দিগন্ত: রাবিতে দেশের প্রথম ইনকিউবেশন হাব চালু

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিল্পমুখী গবেষণা, উদ্যোক্তা তৈরি এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেশের প্রথম ‘ইনকিউবেশন হাব’ চালু হয়েছে। গত শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড প্রোটিন সায়েন্স ল্যাবরেটরি (MBPSL)-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই হাবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব এবং ল্যাবটির মূখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা।

নবপ্রতিষ্ঠিত এই ইনকিউবেশন হাব নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের জন্য একটি সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণাগুলো ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পাবে এবং টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে এই হাবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, “উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে এই ইনকিউবেশন হাব একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অধ্যাপক আবু রেজার নেতৃত্বে রাবিতে এই ল্যাবের যাত্রা শুরু হলো। আমরা আশা করছি, এই ল্যাবকে দেখে এক বছরের মধ্যে আরও অনেক ল্যাব তাদের কার্যক্রম শুরু করবে।” তিনি ল্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ইনকিউবেশন হাবের মূখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা জানান, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণাগুলোকে শিল্পমুখী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। যেসব পণ্য বর্তমানে দেশে উৎপাদিত হয় না, সেগুলো দেশেই উৎপাদন ও বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবে, তেমনি একটি কোম্পানি কীভাবে গড়ে তুলতে হয় সে সম্পর্কেও বাস্তব ধারণা লাভ করবে।

তিনি আরও বলেন, বায়োটেকনোলজির যেসব পণ্য বাংলাদেশের শত শত ল্যাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। অথচ এসব পণ্য দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। ইতিমধ্যে আটটি পণ্য তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব গবেষণাকে ইনকিউবেশন হাবে উন্নয়ন করা হবে এবং পরবর্তীতে কোম্পানিগুলো অর্থায়ন করলে সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা হবে। অধ্যাপক রেজা গবেষণাগারগুলোকে টেকসই করার ক্ষেত্রে ইনকিউবেশন হাবকে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও মূলত সার্টিফিকেটনির্ভর। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের মেধা কাজে লাগিয়ে দেশেই বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন সম্ভব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনকিউবেশন হাবে উৎপাদিত পণ্যগুলো প্রথম পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগে বিনামূল্যে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার, আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন ও অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল হক, ইনকিউবেশন হাবের সহযোগী গবেষক ড. খন্দকার মো. খালিদ-বিন-ফেরদৌস, ইনভেন্ট টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজাউল হালিম এবং মহাব্যবস্থাপক শেখ মো. সেলিম আল-দিন সহ অন্যান্য শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ।