বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি চিনিকল অবিলম্বে পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছে ‘রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটি’। এই দাবি আদায়ে আগামী ৩১ মার্চ শিল্প মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মূল কর্মসূচি সফল করতে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের সকল রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে (চালু ও বন্ধ উভয়ই) বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। একইসঙ্গে মিলগুলো আধুনিকায়ন এবং চিনি শিল্পে বিরাজমান দুর্নীতি বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়েছেন শ্রমিক ও কৃষক নেতারা।
সংগ্রাম কমিটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ফিরোজের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক নুর রহমান পলাশ। বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে বন্ধ থাকা ছয়টি চিনিকল আধুনিকায়ন করে পুনরায় সচল করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে এসব মিল চালুর ঘোষণাও আসে। তবে অভিযোগ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না দিয়ে উল্টো আখ মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে, যা চিনি শিল্পের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ। এগুলো বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক ও কৃষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই শিল্পকে লাভজনক করা সম্ভব। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মিলগুলো পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া থমকে আছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতির সভাপতি ও জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ফয়জুল হাকিম, শ্রমিক নেতা এস এম ফয়েজ হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৈমুর খান অপু এবং চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের সিবিএ নেতা মো. হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও বিভিন্ন চিনিকল রক্ষা কমিটির শীর্ষ নেতারা আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চিনি শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং শ্রমিক-কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ৩১ মার্চের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























