ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

গুগল ম্যাপে আপনার গতিবিধি: লোকেশন বন্ধ রাখলেও যেভাবে জমা হয় ব্যক্তিগত তথ্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সময়ে অচেনা পথে চলাচলের জন্য গুগল ম্যাপ একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রযুক্তির এই সুবিধা ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার প্রতিটি পদক্ষেপের তথ্য জমা হচ্ছে টেক জায়ান্ট গুগলের সার্ভারে। এমনকি স্মার্টফোনের লোকেশন অপশনটি বন্ধ রাখলেও অনেক ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ থামছে না, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগল ম্যাপের ‘টাইমলাইন’ ফিচারের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী কখন, কোথায় এবং কীভাবে যাতায়াত করছেন, তার বিস্তারিত রেকর্ড সংরক্ষিত হয়। অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন লোকেশন সার্ভিস বন্ধ রাখলে গুগল আর তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, গুগলের বিভিন্ন অ্যাপ বা সেবা ব্যবহার করার সময় কিছু ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের সার্ভারে চলে যায়। এই তথ্যগুলো পরবর্তীতে ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও অবস্থান অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এমনকি টাইমলাইন থেকে তথ্য মুছে দিলেও মূল সার্ভারে দীর্ঘ সময় এসব তথ্যের অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ডিজিটাল এই নজরদারি থেকে দূরে থাকতে গুগল অ্যাকাউন্টের ‘মাই অ্যাক্টিভিটি’ (My Activity) পেজে গিয়ে নিয়মিত তথ্য মুছে ফেলা একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। এছাড়া স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ এবং ‘লোকেশন হিস্ট্রি’র মতো অপশনগুলো যাচাই করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ বন্ধ থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে লোকেশন অ্যাক্সেস সচল থাকার ফলে ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে প্রতিটি অ্যাপের জন্য আলাদাভাবে লোকেশন পারমিশন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এক্ষেত্রে ‘অ্যালাও অল দ্য টাইম’ (Allow all the time) অপশনটি পরিহার করে ‘অ্যালাও অনলি হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ (Allow only while using the app) নির্বাচন করা তুলনামূলক নিরাপদ। এতে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় ছাড়া অন্য কোনো সময় ব্যবহারকারীর অবস্থান ট্র্যাক করতে পারবে না।

বিকল্প হিসেবে অনেকেই প্রাইভেসির দিকে বেশি গুরুত্ব দেয় এমন নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। অ্যাপল ম্যাপস এক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয় হলেও এটি কেবল আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে ‘হিয়ারউইগো’ বা ‘ম্যাপকোয়েস্ট’-এর মতো অ্যাপগুলোও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, জনপ্রিয় নেভিগেশন অ্যাপ ‘ওয়েজ’ (Waze) গুগলের মালিকানাধীন হওয়ায় সেখানেও তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে একই ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়। মূলত সচেতনভাবে স্মার্টফোনের সেটিংস নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত অ্যাক্টিভিটি মনিটর করার মাধ্যমেই ডিজিটাল বিশ্বে নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

গুগল ম্যাপে আপনার গতিবিধি: লোকেশন বন্ধ রাখলেও যেভাবে জমা হয় ব্যক্তিগত তথ্য

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বর্তমান সময়ে অচেনা পথে চলাচলের জন্য গুগল ম্যাপ একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রযুক্তির এই সুবিধা ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার প্রতিটি পদক্ষেপের তথ্য জমা হচ্ছে টেক জায়ান্ট গুগলের সার্ভারে। এমনকি স্মার্টফোনের লোকেশন অপশনটি বন্ধ রাখলেও অনেক ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ থামছে না, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগল ম্যাপের ‘টাইমলাইন’ ফিচারের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী কখন, কোথায় এবং কীভাবে যাতায়াত করছেন, তার বিস্তারিত রেকর্ড সংরক্ষিত হয়। অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন লোকেশন সার্ভিস বন্ধ রাখলে গুগল আর তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, গুগলের বিভিন্ন অ্যাপ বা সেবা ব্যবহার করার সময় কিছু ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের সার্ভারে চলে যায়। এই তথ্যগুলো পরবর্তীতে ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও অবস্থান অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এমনকি টাইমলাইন থেকে তথ্য মুছে দিলেও মূল সার্ভারে দীর্ঘ সময় এসব তথ্যের অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ডিজিটাল এই নজরদারি থেকে দূরে থাকতে গুগল অ্যাকাউন্টের ‘মাই অ্যাক্টিভিটি’ (My Activity) পেজে গিয়ে নিয়মিত তথ্য মুছে ফেলা একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। এছাড়া স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ এবং ‘লোকেশন হিস্ট্রি’র মতো অপশনগুলো যাচাই করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ বন্ধ থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে লোকেশন অ্যাক্সেস সচল থাকার ফলে ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে প্রতিটি অ্যাপের জন্য আলাদাভাবে লোকেশন পারমিশন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এক্ষেত্রে ‘অ্যালাও অল দ্য টাইম’ (Allow all the time) অপশনটি পরিহার করে ‘অ্যালাও অনলি হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ (Allow only while using the app) নির্বাচন করা তুলনামূলক নিরাপদ। এতে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় ছাড়া অন্য কোনো সময় ব্যবহারকারীর অবস্থান ট্র্যাক করতে পারবে না।

বিকল্প হিসেবে অনেকেই প্রাইভেসির দিকে বেশি গুরুত্ব দেয় এমন নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। অ্যাপল ম্যাপস এক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয় হলেও এটি কেবল আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে ‘হিয়ারউইগো’ বা ‘ম্যাপকোয়েস্ট’-এর মতো অ্যাপগুলোও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, জনপ্রিয় নেভিগেশন অ্যাপ ‘ওয়েজ’ (Waze) গুগলের মালিকানাধীন হওয়ায় সেখানেও তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে একই ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়। মূলত সচেতনভাবে স্মার্টফোনের সেটিংস নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত অ্যাক্টিভিটি মনিটর করার মাধ্যমেই ডিজিটাল বিশ্বে নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব।