ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব সক্ষমতায় বাস তৈরির মাইলফলক স্পর্শ করল বিআরটিসি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) নিজস্ব অর্থায়ন ও কারিগরি ব্যবস্থাপনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস তৈরির মাধ্যমে তাদের সক্ষমতার নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শনিবার গাজীপুরের কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় সংস্থাটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতকৃত দুটি এসি বাসের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, বিআরটিসি এখন কেবল একটি সাধারণ পরিবহন সংস্থা নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি নিজস্ব প্রশিক্ষণ অবকাঠামো এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও আধুনিক পরিবহন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। নিজস্ব কারখানায় এই বাস নির্মাণ সেই সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) শেখ মইনউদ্দিন। তিনি সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বিআরটিসিকে এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন বাইরের গাড়িও এখানে সংযোজন করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, নিজস্ব কারখানায় এই দুটি বাস তৈরির বিষয়টি একটি শুভ সূচনা মাত্র। মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিআরটিসিকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি একটি নতুন যুগের সূচনা এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংস্থাটি আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দীর্ঘদিন বহরে নতুন যানবাহন যুক্ত না হওয়ায় এবং অধিকাংশ বাস পুরোনো হয়ে যাওয়ায় পরিচালনা ব্যয় বাড়লেও আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ব্যয় সংকোচন করা হচ্ছে। বর্তমানে বিআরটিসির সদরদপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ‘ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম’ (VTS) ব্যবহার করে সারা দেশে চলাচলকারী বাস ও ট্রাকগুলো রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়, বিআরটিসি বহরকে আরও আধুনিক করতে চলতি বছরের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩৪০টি অত্যাধুনিক বাস আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে বহরে নতুন ট্রাক ও কোস্টার বাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিআরটিসির পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) ড. অনুপম সাহা, পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম, পরিচালক (কারিগরি ও প্রশিক্ষণ) কর্নেল কাজী আইয়ুব আলীসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

নিজস্ব সক্ষমতায় বাস তৈরির মাইলফলক স্পর্শ করল বিআরটিসি

আপডেট সময় : ০৫:২২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) নিজস্ব অর্থায়ন ও কারিগরি ব্যবস্থাপনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস তৈরির মাধ্যমে তাদের সক্ষমতার নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শনিবার গাজীপুরের কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় সংস্থাটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতকৃত দুটি এসি বাসের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, বিআরটিসি এখন কেবল একটি সাধারণ পরিবহন সংস্থা নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি নিজস্ব প্রশিক্ষণ অবকাঠামো এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও আধুনিক পরিবহন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। নিজস্ব কারখানায় এই বাস নির্মাণ সেই সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) শেখ মইনউদ্দিন। তিনি সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বিআরটিসিকে এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন বাইরের গাড়িও এখানে সংযোজন করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, নিজস্ব কারখানায় এই দুটি বাস তৈরির বিষয়টি একটি শুভ সূচনা মাত্র। মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিআরটিসিকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি একটি নতুন যুগের সূচনা এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংস্থাটি আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দীর্ঘদিন বহরে নতুন যানবাহন যুক্ত না হওয়ায় এবং অধিকাংশ বাস পুরোনো হয়ে যাওয়ায় পরিচালনা ব্যয় বাড়লেও আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ব্যয় সংকোচন করা হচ্ছে। বর্তমানে বিআরটিসির সদরদপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ‘ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম’ (VTS) ব্যবহার করে সারা দেশে চলাচলকারী বাস ও ট্রাকগুলো রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়, বিআরটিসি বহরকে আরও আধুনিক করতে চলতি বছরের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩৪০টি অত্যাধুনিক বাস আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে বহরে নতুন ট্রাক ও কোস্টার বাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিআরটিসির পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) ড. অনুপম সাহা, পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম, পরিচালক (কারিগরি ও প্রশিক্ষণ) কর্নেল কাজী আইয়ুব আলীসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।