আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে পরবর্তী পাঁচ বছরে এক কোটি দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটিই দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ইশতেহার।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, দেশের বেকারত্ব নিরসন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। ইশতেহার অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় কর্মপ্রার্থীদের তালিকাভুক্ত করে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণকালীন ভাতার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বনিম্ন ব্যয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিদেশ গমনেচ্ছুদের আর্থিক সংকট দূর করতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও বিদেশের দূতাবাসগুলোতে প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য, কাজের দক্ষতা ও চুক্তির শর্তাবলি সংরক্ষিত থাকবে। কার্ডটি সরাসরি ব্যাংকিং পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রবাসীরা সহজে ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন। এছাড়া রেমিট্যান্সের ওপর বাড়তি প্রণোদনা এবং প্রবাস ফেরতদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু, দুর্ঘটনা বা চাকরি হারানো কর্মীদের আর্থিক সহায়তা দিতে ‘প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হবে। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষা ও পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দেশে ফিরে যারা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের জন্য এসএমই ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান করা হবে।
বিদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ১০০ একর জমিতে একটি বিশেষায়িত ‘ওভারসিজ স্কিলস ইনভেস্টমেন্ট পার্ক’ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। এখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে বিদেশে নিয়মিত ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট মেলা’ আয়োজন করা হবে।
কারিগরি শিক্ষার প্রসারে দেশের পলিটেকনিক ও টিটিসিগুলোতে ৭ হাজার ৫০০ জন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ইশতেহারে, যার মধ্যে এক হাজার জন থাকবেন উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক যন্ত্রপাতির জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ভাষাগত বাধা দূর করতে আরবি, ইংরেজি, জাপানিজ, জার্মান ও কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এক হাজার ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ এবং বিএমইটির অধীনে একটি ‘ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ই-লার্নিং সেন্টার’ স্থাপন করা হবে। এছাড়া মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও যেন এই ভাষা শিক্ষার সুযোগ পায়, তার জন্য হাইব্রিড মডেল অনুসরণ করা হবে।
ইশতেহারে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘জাতীয় কারিগরি দক্ষতা কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিশন আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরিতে কাজ করবে। পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ‘স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম’ এবং একটি ডিজিটাল ‘স্মার্ট স্কিল ব্যাংক’ বা ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নিয়মিত গবেষণার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ‘মাইগ্রেশন মার্কেট রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিএনপি।
রিপোর্টারের নাম 
























