ঢাকা ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৎস্য ও পোলট্রি খাতের বিদ্যুতে বছরে ৪০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন যে, কৃষি খাত ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ পেলেও মৎস্য ও পোলট্রি খাতকে এখনও শিল্প হারের বিল দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এই খাতে বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন। দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তার বৃহত্তর স্বার্থে এই ভর্তুকি দেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

শনিবার (১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ক্যাব যুব সংসদ-২০২৫’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় উপদেষ্টা এসব কথা তুলে ধরেন। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

ভর্তুকির প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, জনগণের সুবিধার কথা ভেবে টাকার অঙ্কের জন্য পিছিয়ে থাকলে চলবে না। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অনুমোদন দিলেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সহজ হয়ে যাবে।

বিদ্যুৎ খাতের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, রাঙামাটিতে ২২০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ তৈরি হলেও সেখানকার স্থানীয়রা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ওই এলাকায় এখনও দিনে ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হয়। তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে নিম্নবিত্ত এলাকায় লোডশেডিং হলেও উচ্চবিত্ত এলাকায় হয় না। তিনি এই ধরনের বৈষম্য দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।

ফরিদা আখতার বলেন, কপ সম্মেলনে দেওয়া ‘নেট জিরো কার্বন এমিশন’-এর প্রতিশ্রুতি ধনী দেশগুলোর একটি প্রতারণামূলক প্রস্তাব। তার মতে, ধনী দেশগুলো নিজেদের কার্বন নিঃসরণ না কমিয়ে, উল্টো কার্বন কমানোর প্রযুক্তি দিতে চাইছে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ খুবই সামান্য হলেও আমরাই এর ভুক্তভোগী। ধনী দেশগুলো মূলত কার্বন নিঃসরণ কমানোর নামে ‘নেট জিরো’ ধারণার আড়ালে নতুন প্রযুক্তি ব্যবসা এবং কর্পোরেট মুনাফা বাড়ানোর পথ খুঁজছে।

ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে রইল ভারত

মৎস্য ও পোলট্রি খাতের বিদ্যুতে বছরে ৪০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন যে, কৃষি খাত ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ পেলেও মৎস্য ও পোলট্রি খাতকে এখনও শিল্প হারের বিল দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এই খাতে বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন। দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তার বৃহত্তর স্বার্থে এই ভর্তুকি দেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

শনিবার (১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ক্যাব যুব সংসদ-২০২৫’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় উপদেষ্টা এসব কথা তুলে ধরেন। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

ভর্তুকির প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, জনগণের সুবিধার কথা ভেবে টাকার অঙ্কের জন্য পিছিয়ে থাকলে চলবে না। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অনুমোদন দিলেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সহজ হয়ে যাবে।

বিদ্যুৎ খাতের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, রাঙামাটিতে ২২০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ তৈরি হলেও সেখানকার স্থানীয়রা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ওই এলাকায় এখনও দিনে ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হয়। তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে নিম্নবিত্ত এলাকায় লোডশেডিং হলেও উচ্চবিত্ত এলাকায় হয় না। তিনি এই ধরনের বৈষম্য দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।

ফরিদা আখতার বলেন, কপ সম্মেলনে দেওয়া ‘নেট জিরো কার্বন এমিশন’-এর প্রতিশ্রুতি ধনী দেশগুলোর একটি প্রতারণামূলক প্রস্তাব। তার মতে, ধনী দেশগুলো নিজেদের কার্বন নিঃসরণ না কমিয়ে, উল্টো কার্বন কমানোর প্রযুক্তি দিতে চাইছে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ খুবই সামান্য হলেও আমরাই এর ভুক্তভোগী। ধনী দেশগুলো মূলত কার্বন নিঃসরণ কমানোর নামে ‘নেট জিরো’ ধারণার আড়ালে নতুন প্রযুক্তি ব্যবসা এবং কর্পোরেট মুনাফা বাড়ানোর পথ খুঁজছে।

ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।