ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘আমার লোক, তোমার লোক’ সংস্কৃতি থেকে বিএনপি-জামায়াতসহ সব দলকে বের হতে হবে: আইন উপদেষ্টা

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আমার লোক, তোমার লোক’—এই সংস্কৃতি থেকে বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলগুলোকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। তবে শুধু বড় দলই নয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোকেও এই কালচার থেকে বের হতে হবে, কারণ ছোট বা উদীয়মান দলগুলোও এই ব্যাধি থেকে মুক্ত নয়। শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি দুজন পুলিশ কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে তিনি বড় দুটি দলের কাছ থেকে কল পেয়েছেন। প্রশাসনের ভেতরে এই ধরনের প্রবণতা দেখেই তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে তা থেকে বেরিয়ে আসার এই আহ্বান জানান।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার লোক, তোমার লোক—এই সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ আমলে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বাংলাদেশে যত খারাপ বা শয়তানি কাজ, তার বেশিরভাগই প্রথম আওয়ামী লীগ আমলে শুরু হয়েছে। ’৭৩ সালের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, ভুয়া নির্বাচন বা দলীয়করণ—সবকিছু আওয়ামী লীগই শুরু করেছে, অন্যরা কেবল তা অব্যাহত রেখেছে।’

তিনি ‘আমার লোক, তোমার লোক’ সংস্কৃতি নাগরিক সমাজের ভেতরেও রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ আক্রান্ত হলেও কোনও প্রতিবাদ হয়নি। তিনি আরও মন্তব্য করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বাহিনী পুলিশকে একটি ‘নির্মম, অত্যাচারী, পাশবিক ও দানবীয় বাহিনীতে’ পরিণত করেছিলেন।

পুলিশি নির্যাতনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকেই সরকারি দলের আদেশে বা তাদের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে নির্যাতন করে। কেউ কেউ আবার নিজ স্বভাবের কারণেই এটা করে, কারণ সে ক্ষমতাশালী হতে চায়, টাকা বানাতে চায়। সরকার তাকে যতটুকু অত্যাচার করতে বলে, সে তার চেয়ে দশগুণ বেশি করে।’

এই ‘নিজ স্বভাবের’ উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের নাম উল্লেখ করেন।

আসিফ নজরুল প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ফরেনসিক সুবিধার অভাবকেও অত্যাচারের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুধু অপরাধ স্বীকার করানোর জন্যই অত্যাচার করা হয়, যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বর্তমান সরকারের পুলিশ সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, এখন কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই সংস্কার কাজ চলছে। এ প্রসঙ্গে তিনি পুলিশ সংস্কার কমিশন এবং পুলিশের ভেতরে একটি নিবেদিত তদন্ত দল বা সংস্থা গঠনের কথা উল্লেখ করেন।

পুলিশের হাতে নাগরিকদের নির্যাতন বন্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কাউকে আটক করলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার স্বজনদের জানাতে হবে। এছাড়া গুম সংক্রান্ত আইনেও সংশোধন আনা হয়েছে, যেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে তা গুম হিসেবে বিবেচিত হবে।’

পুলিশ সংস্কার কমিশনের পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকা নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, সে বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলেই যে কেউ মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করবে, এই ধারণা ঠিক নয়।’

তিনি পুলিশের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে আরও বলেন, ‘কিছু লোক থাকে শুধু গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য, এটাই তাদের কাজ। তাদের নিষেধ করলে তারা মন খারাপ করে। এই সংস্কৃতি বন্ধ করার জন্য কাজ করতে হবে।’

গোলটেবিল বৈঠকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে, চলমান পুলিশ সংস্কারের উদ্যোগ সফল হবে না।’

ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পরেও প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি এখনও চালু রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখনও নিয়োগ, পদোন্নতি থেকে শুরু করে কাকে বাদ দেওয়া হবে বা হবে না, এমনকি মামলা, গ্রেফতার ও জামিন বাণিজ্য—সবকিছুই চলছে। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই এবং এটা চলতেই থাকবে।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নভেম্বর থেকে পুলিশের জন্য নতুন পোশাক চালুর কথা রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, নতুন পোশাকের চেয়েও পুলিশের বাসস্থান ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া অনেক বেশি জরুরি। উদাহরণ হিসেবে তিনি মিরপুরের একটি পুলিশ ব্যারাকের কথা বলেন, যেখানে ২০০ জন কর্মীর জন্য মাত্র একটি বাথরুম রয়েছে এবং ৬০ বর্গফুটের একটি ঘরে ২০ জন পুলিশ সদস্যকে ঘুমাতে হয়।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি নিয়ে টিআইবির প্রধান বলেন, ‘পুলিশকে শুধু ব্যবহার করা হয়েছে, বিষয়টা এমন নয়; বরং তারা এই ক্ষমতাকে উপভোগ করেছে।’

তিনি আরও মনে করেন, ‘এই ক্ষমতা ব্যবহার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধাও নিয়েছেন। তাই, কাঠামোগ করতে পারিবর্তনের পাশাপাশি তাদের মানসিকতার পরিবর্তনও অত্যন্ত জরুরি।’

এই গোলটেবিল বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রথম আলো এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার কল্যাণ সমিতি। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

বৈঠকের শুরুতে ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজি ও বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি ইয়াসমিন গফুর।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান রাজধানীতে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, সীমান্তে চরম উত্তেজনা

‘আমার লোক, তোমার লোক’ সংস্কৃতি থেকে বিএনপি-জামায়াতসহ সব দলকে বের হতে হবে: আইন উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আমার লোক, তোমার লোক’—এই সংস্কৃতি থেকে বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলগুলোকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। তবে শুধু বড় দলই নয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোকেও এই কালচার থেকে বের হতে হবে, কারণ ছোট বা উদীয়মান দলগুলোও এই ব্যাধি থেকে মুক্ত নয়। শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি দুজন পুলিশ কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে তিনি বড় দুটি দলের কাছ থেকে কল পেয়েছেন। প্রশাসনের ভেতরে এই ধরনের প্রবণতা দেখেই তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে তা থেকে বেরিয়ে আসার এই আহ্বান জানান।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার লোক, তোমার লোক—এই সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ আমলে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বাংলাদেশে যত খারাপ বা শয়তানি কাজ, তার বেশিরভাগই প্রথম আওয়ামী লীগ আমলে শুরু হয়েছে। ’৭৩ সালের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, ভুয়া নির্বাচন বা দলীয়করণ—সবকিছু আওয়ামী লীগই শুরু করেছে, অন্যরা কেবল তা অব্যাহত রেখেছে।’

তিনি ‘আমার লোক, তোমার লোক’ সংস্কৃতি নাগরিক সমাজের ভেতরেও রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ আক্রান্ত হলেও কোনও প্রতিবাদ হয়নি। তিনি আরও মন্তব্য করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বাহিনী পুলিশকে একটি ‘নির্মম, অত্যাচারী, পাশবিক ও দানবীয় বাহিনীতে’ পরিণত করেছিলেন।

পুলিশি নির্যাতনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকেই সরকারি দলের আদেশে বা তাদের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে নির্যাতন করে। কেউ কেউ আবার নিজ স্বভাবের কারণেই এটা করে, কারণ সে ক্ষমতাশালী হতে চায়, টাকা বানাতে চায়। সরকার তাকে যতটুকু অত্যাচার করতে বলে, সে তার চেয়ে দশগুণ বেশি করে।’

এই ‘নিজ স্বভাবের’ উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের নাম উল্লেখ করেন।

আসিফ নজরুল প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ফরেনসিক সুবিধার অভাবকেও অত্যাচারের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুধু অপরাধ স্বীকার করানোর জন্যই অত্যাচার করা হয়, যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বর্তমান সরকারের পুলিশ সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, এখন কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই সংস্কার কাজ চলছে। এ প্রসঙ্গে তিনি পুলিশ সংস্কার কমিশন এবং পুলিশের ভেতরে একটি নিবেদিত তদন্ত দল বা সংস্থা গঠনের কথা উল্লেখ করেন।

পুলিশের হাতে নাগরিকদের নির্যাতন বন্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কাউকে আটক করলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার স্বজনদের জানাতে হবে। এছাড়া গুম সংক্রান্ত আইনেও সংশোধন আনা হয়েছে, যেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে তা গুম হিসেবে বিবেচিত হবে।’

পুলিশ সংস্কার কমিশনের পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকা নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, সে বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলেই যে কেউ মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করবে, এই ধারণা ঠিক নয়।’

তিনি পুলিশের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে আরও বলেন, ‘কিছু লোক থাকে শুধু গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য, এটাই তাদের কাজ। তাদের নিষেধ করলে তারা মন খারাপ করে। এই সংস্কৃতি বন্ধ করার জন্য কাজ করতে হবে।’

গোলটেবিল বৈঠকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে, চলমান পুলিশ সংস্কারের উদ্যোগ সফল হবে না।’

ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পরেও প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি এখনও চালু রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখনও নিয়োগ, পদোন্নতি থেকে শুরু করে কাকে বাদ দেওয়া হবে বা হবে না, এমনকি মামলা, গ্রেফতার ও জামিন বাণিজ্য—সবকিছুই চলছে। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই এবং এটা চলতেই থাকবে।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নভেম্বর থেকে পুলিশের জন্য নতুন পোশাক চালুর কথা রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, নতুন পোশাকের চেয়েও পুলিশের বাসস্থান ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া অনেক বেশি জরুরি। উদাহরণ হিসেবে তিনি মিরপুরের একটি পুলিশ ব্যারাকের কথা বলেন, যেখানে ২০০ জন কর্মীর জন্য মাত্র একটি বাথরুম রয়েছে এবং ৬০ বর্গফুটের একটি ঘরে ২০ জন পুলিশ সদস্যকে ঘুমাতে হয়।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি নিয়ে টিআইবির প্রধান বলেন, ‘পুলিশকে শুধু ব্যবহার করা হয়েছে, বিষয়টা এমন নয়; বরং তারা এই ক্ষমতাকে উপভোগ করেছে।’

তিনি আরও মনে করেন, ‘এই ক্ষমতা ব্যবহার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধাও নিয়েছেন। তাই, কাঠামোগ করতে পারিবর্তনের পাশাপাশি তাদের মানসিকতার পরিবর্তনও অত্যন্ত জরুরি।’

এই গোলটেবিল বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রথম আলো এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার কল্যাণ সমিতি। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

বৈঠকের শুরুতে ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজি ও বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি ইয়াসমিন গফুর।