ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বর্গভূমি: ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বর্গভূমি। তিনি বলেন, এই সত্যটি বোঝার জন্য আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারত বা মিয়ানমারের দিকে তাকালেই যথেষ্ট। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এই দেশে একেবারেই কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে না এমনটি নয়, সংঘাত মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে। তবে তার মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব সংঘাত হয় রাজনৈতিক কারণে, সাম্প্রদায়িক কারণে নয়।

শনিবার (১ নভেম্বর) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্ঘ্যপূর্ণ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐক্যবদ্ধতা ও অধিকারের নিশ্চয়তা
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “আমরা বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বড় হয়েছি, স্কুল-কলেজে গেছি, চাকরি করেছি। একসঙ্গে বাজারে যাই, বসবাস করি।” তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন:

“এদেশ আমাদের সবার। আমার যেমন অধিকার রয়েছে—একজন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ি, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সবার সমান অধিকার রয়েছে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের অধিকার যেন কেউ ক্ষুণ্ন করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

দেশের উন্নয়ন ও লালমনিরহাটের গুরুত্ব
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন বলেন, কোনো দেশে সম্প্রীতি না থাকলে, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ে সংঘাত হলে সেদেশ কখনো উন্নত হবে না। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না, পর্যটকদের আগমন ঘটবে না। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বিশেষভাবে লালমনিরহাটকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উর্বর ভূমি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এখানে মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় কোনো ধরনের বিবাদ নেই, বিসংবাদ নেই। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করতে হবে।” তিনি লালমনিরহাট জেলার মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাংসহ অন্যান্য সামাজিক সমস্যা নিরসনেও সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

নির্বাচনের আহ্বান
বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাটে উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগাকে দুঃখজনক মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আপনারা এমন প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন যিনি লালমনিরহাটকে সোনায় মুড়িয়ে দিতে পারেন। আমরা অভিযোগ শুনতে চাই না, কাজ দেখতে চাই।”

হাদিসের উদ্ধৃতি
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে হাদিস উদ্ধৃত করে ড. খালিদ বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর জীবনের বহু যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তিনি যুদ্ধের প্রাক্কালে সাহাবিদের ডেকে নির্বিচারে গাছ কাটতে, নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করতে এবং মন্দির কিংবা গীর্জায় অবস্থানকারীদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। হযরত (সা.)-এর এই সমরনীতিই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির।

অন্যান্য বক্তারা
জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম জেলা নায়েবে আমীর মো. হাবিবুর রহমান এবং বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এইচ এম বরকতুল্লাহ প্রমুখ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান রাজধানীতে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, সীমান্তে চরম উত্তেজনা

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বর্গভূমি: ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বর্গভূমি। তিনি বলেন, এই সত্যটি বোঝার জন্য আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারত বা মিয়ানমারের দিকে তাকালেই যথেষ্ট। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এই দেশে একেবারেই কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে না এমনটি নয়, সংঘাত মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে। তবে তার মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব সংঘাত হয় রাজনৈতিক কারণে, সাম্প্রদায়িক কারণে নয়।

শনিবার (১ নভেম্বর) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্ঘ্যপূর্ণ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐক্যবদ্ধতা ও অধিকারের নিশ্চয়তা
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “আমরা বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বড় হয়েছি, স্কুল-কলেজে গেছি, চাকরি করেছি। একসঙ্গে বাজারে যাই, বসবাস করি।” তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন:

“এদেশ আমাদের সবার। আমার যেমন অধিকার রয়েছে—একজন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ি, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সবার সমান অধিকার রয়েছে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের অধিকার যেন কেউ ক্ষুণ্ন করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

দেশের উন্নয়ন ও লালমনিরহাটের গুরুত্ব
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন বলেন, কোনো দেশে সম্প্রীতি না থাকলে, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ে সংঘাত হলে সেদেশ কখনো উন্নত হবে না। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না, পর্যটকদের আগমন ঘটবে না। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বিশেষভাবে লালমনিরহাটকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উর্বর ভূমি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এখানে মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় কোনো ধরনের বিবাদ নেই, বিসংবাদ নেই। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করতে হবে।” তিনি লালমনিরহাট জেলার মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাংসহ অন্যান্য সামাজিক সমস্যা নিরসনেও সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

নির্বাচনের আহ্বান
বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাটে উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগাকে দুঃখজনক মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আপনারা এমন প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন যিনি লালমনিরহাটকে সোনায় মুড়িয়ে দিতে পারেন। আমরা অভিযোগ শুনতে চাই না, কাজ দেখতে চাই।”

হাদিসের উদ্ধৃতি
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে হাদিস উদ্ধৃত করে ড. খালিদ বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর জীবনের বহু যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তিনি যুদ্ধের প্রাক্কালে সাহাবিদের ডেকে নির্বিচারে গাছ কাটতে, নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করতে এবং মন্দির কিংবা গীর্জায় অবস্থানকারীদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। হযরত (সা.)-এর এই সমরনীতিই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির।

অন্যান্য বক্তারা
জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম জেলা নায়েবে আমীর মো. হাবিবুর রহমান এবং বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এইচ এম বরকতুল্লাহ প্রমুখ।