বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজাহারুল ইসলাম বলেছেন, যারা বিদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে বা দীর্ঘকাল ধরে দেশ থেকে পালিয়ে থাকে, তারা জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, দেশের অর্থনীতি ধ্বংসকারী দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব কখনোই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে না। সোমবার নীলফামারী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এই জনসভায় এটিএম আজাহারুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, “যারা নিজেদের এ দেশের বন্ধু বলত, তারা আজ কোথায়? যারা ১৭ বছর ধরে পালিয়ে ছিল, তারাও জনগণের বন্ধু নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত নেতারা মৃত্যুর ভয়ে পালিয়ে যান না, বরং যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পালিয়ে ছিলেন, তারাই জনগণের বন্ধু নন।
দেশের সম্পদের অভাব নেই উল্লেখ করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, যদি সম্পদের অভাব থাকত, তাহলে গত ১৭ বছরে এ দেশ থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হতো না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ৫৪ বছর ধরে দুর্নীতিবাজরা দেশ শাসন করেছে এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলো দেশের ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এটিএম আজাহারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ সেবার সুযোগ পায়, তাহলে সর্বপ্রথম দুর্নীতি বন্ধ করবে। তার মতে, বাংলাদেশের দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে অর্ধেকের বেশি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “আমরা দুর্নীতি করি না, দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা বিগত ৫৪ বছরে নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল প্রতীকের নেতৃত্ব দেখেছেন, কিন্তু দাঁড়িপাল্লার লোকদের কখনও ক্ষমতায় দেখেননি। সকল দলকে দেখা শেষ, একবার দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে দেখেন আমরা কোনো পরিবর্তন করতে পারি কিনা।” একটি দলের নেতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে, জামায়াতের অভিজ্ঞতা নাই – এমন কথা যারা বলেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, হ্যাঁ, আমাদের দুর্নীতি করার অভিজ্ঞতা নেই।”
২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় সফলভাবে পরিচালনা করেছেন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সে সময় সকল মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হলেও এই তিনটি মন্ত্রণালয়ে একটি টাকারও দুর্নীতি কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, “এই দুই মন্ত্রী যেমন যোগ্য ছিল, তেমনি সততার সাথে দেশ পরিচালনা করে প্রমাণ করেছে দুর্নীতি না করেও মন্ত্রণালয়কে কত সুন্দর করা যায়। আমরা যদি দেশ সেবার সুযোগ পাই, দেশকে একশত ভাগ দুর্নীতিমুক্ত করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে এটিএম আজাহারুল ইসলাম বলেন, “একজন নেতা বলছেন, আমরা দেশ থেকে পালাইনি। যিনি ১৭ বছর দেশ থেকে পালিয়ে দেশে আসলেন, তার মুখে এসব কথা শোভা পায় না। তিনি অসত্যবাদী। যিনি ক্ষমতায় যাওয়ার আগে অসত্য কথা বলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে যে ওয়াদা করেছেন, একটি ওয়াদাও পালন করবেন না।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা মৃত্যুর ভয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাননি, বরং হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চ বরণ করেছেন, কিন্তু নিজে সুখে থাকার জন্য বিদেশে থাকার চেষ্টা করেননি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, যারা ইতোমধ্যে চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তাদের ভোট দিলে দেশ পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে।
সমাবেশে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়িম বলেন, আবু সাঈদসহ জুলাইয়ের শহীদরা হচ্ছেন জুলাই বিপ্লবের মহানায়ক। সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সঠিক নেতৃত্ব থাকলে সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব। অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব এবং ভারতের প্রেসক্রিপশনে চলার কারণে জুলাই বিপ্লব বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জনসভায় উপস্থিত সকলের কাছে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোটদানের আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়িম বলেন, একটি দল বুকে পাথর চাপা দিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং জাতীয় নির্বাচনে ছাত্র-জনতা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিনিধিকে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে।
সদর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনি জনসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জামায়াতের জেলা আমীর অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার এবং নায়েবে আমীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু প্রমুখ।
পরে সন্ধ্যায় তিনি নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 






















