ঢাকা ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আইনজীবীর চেম্বারে বিচারপ্রার্থী ধর্ষণ: বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, কারাগারে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বিজয়নগরে নিজের আইনি চেম্বারে এক বিচারপ্রার্থী নারীকে (৪৫) ধর্ষণের অভিযোগে লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলামকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, মামলার হাজিরার তারিখ জানানোর কথা বলে আইনজীবী তাকে চেম্বারে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মামলায় জামিনের জন্য অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলামের সহায়তা নিয়েছিলেন। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় এবং একই এলাকায় (ওয়ারী) বসবাস করায় তিনি ওই আইনজীবীকে ‘কাকা’ বলে ডাকতেন। পরবর্তীতে মামলার হাজিরার তারিখ জানতে চেয়ে বারবার যোগাযোগ করলেও আইনজীবী টালবাহানা করছিলেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর ও রাতে ভুক্তভোগী নারী আইনজীবীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। রাতে ফোন করার পর তাকে বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় অবস্থিত চেম্বারে যেতে বলা হয়। রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারী চেম্বারে গেলে দেখেন আইনজীবী সামছুল ইসলাম একাই আছেন। মামলার তারিখ জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মামলার হাজিরা রয়েছে। এরপর ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হতে চাইলে অভিযুক্ত আইনজীবী প্রথমে তার শরীরে স্পর্শ করে বলেন, “তুমি কি চাও না তোমার মামলাটা দ্রুত শেষ হোক?” এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে আইনজীবী তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সামছুল ইসলাম হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার জিরুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। পেশাগত কারণে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী।

মামলা দায়েরের পর শুক্রবার পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওকালতনামা দাখিল করলেও আদালত জামিন শুনানি না করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রয়েল হোসেন জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিয়মানুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীকে আলামতসহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, লাখাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গোলাপ এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, একটি চক্র রাজনৈতিক কারণে অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলামকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের পুলিশপ্রধানের

আইনজীবীর চেম্বারে বিচারপ্রার্থী ধর্ষণ: বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, কারাগারে

আপডেট সময় : ০৮:০২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর বিজয়নগরে নিজের আইনি চেম্বারে এক বিচারপ্রার্থী নারীকে (৪৫) ধর্ষণের অভিযোগে লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলামকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, মামলার হাজিরার তারিখ জানানোর কথা বলে আইনজীবী তাকে চেম্বারে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মামলায় জামিনের জন্য অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলামের সহায়তা নিয়েছিলেন। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় এবং একই এলাকায় (ওয়ারী) বসবাস করায় তিনি ওই আইনজীবীকে ‘কাকা’ বলে ডাকতেন। পরবর্তীতে মামলার হাজিরার তারিখ জানতে চেয়ে বারবার যোগাযোগ করলেও আইনজীবী টালবাহানা করছিলেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর ও রাতে ভুক্তভোগী নারী আইনজীবীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। রাতে ফোন করার পর তাকে বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় অবস্থিত চেম্বারে যেতে বলা হয়। রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারী চেম্বারে গেলে দেখেন আইনজীবী সামছুল ইসলাম একাই আছেন। মামলার তারিখ জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মামলার হাজিরা রয়েছে। এরপর ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হতে চাইলে অভিযুক্ত আইনজীবী প্রথমে তার শরীরে স্পর্শ করে বলেন, “তুমি কি চাও না তোমার মামলাটা দ্রুত শেষ হোক?” এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে আইনজীবী তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সামছুল ইসলাম হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার জিরুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। পেশাগত কারণে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী।

মামলা দায়েরের পর শুক্রবার পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওকালতনামা দাখিল করলেও আদালত জামিন শুনানি না করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রয়েল হোসেন জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিয়মানুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীকে আলামতসহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, লাখাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গোলাপ এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, একটি চক্র রাজনৈতিক কারণে অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলামকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।