কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কলেজছাত্র আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম (১৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি, কুখ্যাত ছিনতাইকারী মেরাজ মিয়াকে (২৫) তার এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সুফিয়ানকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে নিহত সুফিয়ানের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মেরাজ মিয়া ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ভৈরবের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। অপর গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহিম (২৪) ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে এবং তার নামেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এগারসিন্ধু এক্সপ্রেস ট্রেনে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন আবু সুফিয়ান। তিনি তার ফুফার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ট্রেনে ওঠার পর মুঠোফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলে বাড়িতে আসার খবরও জানিয়েছিলেন।
রাত ১২টা পেরিয়ে গেলেও সুফিয়ান বাড়িতে না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ওই সময় থেকে তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের নিউটাউন এলাকা সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহতের হাতের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভান্ডারের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি আবু সুফিয়ানের বলে নিশ্চিত করেন। নিহত আবু সুফিয়ান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের ভাদেকুরিয়াল গ্রামের অটোচালক আবু তাহেরের একমাত্র ছেলে। ঢাকার পল্লবী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী ছিলেন এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) নিহত সুফিয়ানের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, গত ৩১ জানুয়ারি রাতে রেলস্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান নিহত হন। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত মূল আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত সুফিয়ানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
রিপোর্টারের নাম 























