ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১১ বছর বয়সী গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমান এমডি শফিকুর ও স্ত্রীসহ ৪ জন কারাগারে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ মোট চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এই আদেশ দেন।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন শফিকুর রহমানের বাসার অপর গৃহকর্মী রূপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম। পুলিশ গত রোববার দিবাগত রাতে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। বিকেলে আসামিদের আদালতে তোলা হলে তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে নির্যাতিত শিশু মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা, যিনি একজন হোটেল কর্মচারী, রোববার এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানান যে, ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে প্রয়োজন। এরপর মোস্তফা তাদের সঙ্গে দেখা করেন। আসামিরা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, যাকে কাজে রাখা হবে তার বিবাহসহ যাবতীয় খরচ তারা বহন করবেন। এতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোস্তফা তার মেয়ে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন।

সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন বাবা। তবে এরপর থেকে আসামিরা মোহনাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেননি বলে অভিযোগ। গত ৩১ জানুয়ারি সাথী নামের একজন গোলাম মোস্তফাকে ফোন করে জানান যে, মোহনা অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে মোহনাকে আনতে গেলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝিয়ে দেন সাথী। তখন মোস্তফা দেখতে পান, মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছে না। সাথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মোহনা জানায়, ২ নভেম্বর তার বাবা দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিট করত। এমনকি গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ৫ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, বাড়তে পারে তাপমাত্রা

১১ বছর বয়সী গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমান এমডি শফিকুর ও স্ত্রীসহ ৪ জন কারাগারে

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ মোট চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এই আদেশ দেন।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন শফিকুর রহমানের বাসার অপর গৃহকর্মী রূপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম। পুলিশ গত রোববার দিবাগত রাতে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। বিকেলে আসামিদের আদালতে তোলা হলে তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে নির্যাতিত শিশু মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা, যিনি একজন হোটেল কর্মচারী, রোববার এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানান যে, ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে প্রয়োজন। এরপর মোস্তফা তাদের সঙ্গে দেখা করেন। আসামিরা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, যাকে কাজে রাখা হবে তার বিবাহসহ যাবতীয় খরচ তারা বহন করবেন। এতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোস্তফা তার মেয়ে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন।

সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন বাবা। তবে এরপর থেকে আসামিরা মোহনাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেননি বলে অভিযোগ। গত ৩১ জানুয়ারি সাথী নামের একজন গোলাম মোস্তফাকে ফোন করে জানান যে, মোহনা অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে মোহনাকে আনতে গেলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝিয়ে দেন সাথী। তখন মোস্তফা দেখতে পান, মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছে না। সাথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মোহনা জানায়, ২ নভেম্বর তার বাবা দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিট করত। এমনকি গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিত।