সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৫নং বড়দল ইউনিয়নের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বড়দল বাজার থেকে খাজরা পর্যন্ত সংযোগ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বছরের পর বছর ভোগান্তির পর কাজ শুরু হলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি শিডিউল লঙ্ঘন এবং মানহীন কাজের দায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বড়দল বাজার থেকে খাজরা পর্যন্ত এই সংযোগ সড়কটি অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল দশায় পড়ে ছিল; খানাখন্দ আর ধুলোবালিতে জর্জরিত রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতেন যাত্রীরা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সংস্কার কাজ শুরু হতেই অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তা সংস্কারের নামে যেনতেনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো হলো:
নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার: পিচ ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিটুমিন ও খোয়া অত্যন্ত নিম্নমানের। হাত দিলেই পিচ উঠে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
নিয়ম না মানা: সরকারি শিডিউল অনুযায়ী যে পুরুত্বে পিচ ঢালাই ও কার্পেটিং করার কথা, তা মানা হচ্ছে না। ফলে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা: এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে বা তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার অপচেষ্টা চলছে।
এলাকার একজন সচেতন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর কাদা আর গর্তে চলাচল করেছি। এখন যখন কাজ হচ্ছে, তখন ঠিকাদার সিন্ডিকেট করে সব টাকা আত্মসাৎ করছে। নিম্নমানের কাজ দিয়ে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। আমরা এই দুর্নীতির সুষ্ঠু বিচার চাই।”
সড়ক সংস্কারে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম চললেও তদারকিতে থাকা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমন দুর্নীতির সাহস পাচ্ছে এবং সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয় করছে।
বড়দল ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধ করে সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী রাস্তা সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























