মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত কোনো বংশপরম্পরার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। বরং একজন রিকশাচালকের মেধাবী সন্তানও যেন যোগ্যতা বলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তেমন একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনই তাদের মূল লক্ষ্য।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে (গোলচত্বর মাঠ) জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় জামায়াতের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমবেত হন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের অনেক অন্যায় হয়তো আমরা সংশোধন করতে পারব না, কিন্তু আবু সাঈদ ও আবরার ফাহিমের মতো বীরদের হত্যাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত কারও ওপর প্রতিহিংসামূলক অবিচার বা পাইকারি জরিমানা করবে না। যারা নিজেদের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে কর্মের মাধ্যমে লজ্জিত হওয়ার প্রমাণ দেবে, তাদের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
আগামী নির্বাচনকে জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের মাহেন্দ্রক্ষণ উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশ এক নতুন অভিযাত্রা শুরু করবে। এটি হবে জুলাই বিপ্লবের বীরদের স্বপ্ন পূরণের এবং গত ৫৪ বছরের ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে বিদায় জানানোর নির্বাচন। তিনি মা-বোনদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা খরচ রাষ্ট্র বহন করবে। এটি কোনো বৈষম্য নয়, বরং মাতৃত্বের সম্মান ও নারীদের ন্যায্য পাওনা।
বেকারত্ব দূরীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের ছোট করতে চাই না। আমরা প্রতিটি হাতকে কর্মক্ষম ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই, যেন তারা গর্বের সাথে বলতে পারে— ‘আমিই বাংলাদেশ’। মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে এবং কোটা বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকবে না।
দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতি দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে দেশ থেকে যে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে, তা ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে। দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আমলাতন্ত্রকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কোনো দলের হবে না, তারা হবে জনগণের সেবক। তাদের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে এই শহরটি হংকং বা সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত হতে পারেনি। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এখানে একটি আধুনিক ও পেশাদার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে, যা কেবল সার্টিফিকেট বিতরণের কারখানা হবে না বরং মানুষ গড়ার কারিগর তৈরি করবে।
কক্সবাজার জেলা আমীর মাওলানা নূর আহমেদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ডা. মাহমুদা মিতু, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ, জামায়াত নেতা ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকালে মহেশখালীতে অপর এক জনসভায় অংশগ্রহণ করেন ডা. শফিকুর রহমান।
রিপোর্টারের নাম 























