ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য: ডা. শফিকুর রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত কেবল দলীয় বিজয় নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের সামগ্রিক বিজয় প্রত্যাশা করে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই তাদের প্রধান অঙ্গীকার। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডক্টর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই সেই অপরাজনীতির অবসান ঘটবে যারা জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে শোষিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সময়টি সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষে ‘না’ বলার সময়। তিনি জনগণকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ৬২ শতাংশই যুবক। আমরা তরুণদের বেকার ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করতে চাই না; বরং তাদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই, যাতে তারা সম্মানের সাথে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে তরুণদের, আর জামায়াত তাদের সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে।

১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে জোটের প্রতিটি কর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতের প্রার্থীরা নেতা হওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

মহেশখালী উপজেলা উত্তর শাখা জামায়াতের আমির মাস্টার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মনোনীত প্রার্থী ডক্টর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান এবং বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহাসচিব মাওলানা আবু সাঈদ নোমানসহ জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি শোষণমুক্ত ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের পুলিশপ্রধানের

১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০৬:০২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত কেবল দলীয় বিজয় নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের সামগ্রিক বিজয় প্রত্যাশা করে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই তাদের প্রধান অঙ্গীকার। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডক্টর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই সেই অপরাজনীতির অবসান ঘটবে যারা জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে শোষিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সময়টি সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষে ‘না’ বলার সময়। তিনি জনগণকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ৬২ শতাংশই যুবক। আমরা তরুণদের বেকার ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করতে চাই না; বরং তাদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই, যাতে তারা সম্মানের সাথে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে তরুণদের, আর জামায়াত তাদের সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে।

১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে জোটের প্রতিটি কর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতের প্রার্থীরা নেতা হওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

মহেশখালী উপজেলা উত্তর শাখা জামায়াতের আমির মাস্টার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মনোনীত প্রার্থী ডক্টর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান এবং বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহাসচিব মাওলানা আবু সাঈদ নোমানসহ জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি শোষণমুক্ত ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।