ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডে জামায়াত আমিরের জনসভা: স্লোগানে মুখর জনপদ, লাখো মানুষের উপস্থিতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নির্বাচনী জনসভা নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের আগমনের পূর্বেই মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মাঠে উপস্থিত হন। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কর্মীরা মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে পৌঁছে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন চারপাশ। “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার” ধ্বনিতে পুরো এলাকা এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনায় উদ্ভাসিত হয়।

জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন সিকদার জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী পরিচালক ফজলুল করিম সভা পরিচালনা করেন। জনসভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জেলা জামায়াত ছাড়াও খেলাফত মজলিস, এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এতে যোগ দেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রণি, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার এবং উত্তর জেলার সাতটি আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। একে একে তারা তাদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন এবং নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান লোহাগাড়া থেকে হেলিকপ্টারযোগে বিকাল চারটার দিকে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সড়ক পথে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্ব অতিক্রম করে তিনি সীতাকুণ্ড সরকারি হাইস্কুল মাঠের জনসভায় যোগদান করেন। জেলা জামায়াত নেতাদের প্রত্যাশা, উত্তর জেলার সাতটি থানা থেকে প্রায় দুই লক্ষাধিক নেতাকর্মী এই জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন।

সোমবার সকাল থেকেই উত্তর চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সীতাকুণ্ড বাজারে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীতাকুণ্ড পৌর এলাকায় যান চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। জনসভার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। এছাড়া, বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ছাড়াও মিরসরাই, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়িসহ উত্তর জেলার সাতটি থানা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই জনসভায় যোগ দিয়েছেন, যা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী ক্ষমতায়ন ও আর্থিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন

সীতাকুণ্ডে জামায়াত আমিরের জনসভা: স্লোগানে মুখর জনপদ, লাখো মানুষের উপস্থিতি

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নির্বাচনী জনসভা নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের আগমনের পূর্বেই মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মাঠে উপস্থিত হন। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কর্মীরা মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে পৌঁছে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন চারপাশ। “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার” ধ্বনিতে পুরো এলাকা এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনায় উদ্ভাসিত হয়।

জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন সিকদার জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী পরিচালক ফজলুল করিম সভা পরিচালনা করেন। জনসভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জেলা জামায়াত ছাড়াও খেলাফত মজলিস, এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এতে যোগ দেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রণি, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার এবং উত্তর জেলার সাতটি আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। একে একে তারা তাদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন এবং নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান লোহাগাড়া থেকে হেলিকপ্টারযোগে বিকাল চারটার দিকে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সড়ক পথে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্ব অতিক্রম করে তিনি সীতাকুণ্ড সরকারি হাইস্কুল মাঠের জনসভায় যোগদান করেন। জেলা জামায়াত নেতাদের প্রত্যাশা, উত্তর জেলার সাতটি থানা থেকে প্রায় দুই লক্ষাধিক নেতাকর্মী এই জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন।

সোমবার সকাল থেকেই উত্তর চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সীতাকুণ্ড বাজারে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীতাকুণ্ড পৌর এলাকায় যান চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। জনসভার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। এছাড়া, বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ছাড়াও মিরসরাই, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়িসহ উত্তর জেলার সাতটি থানা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই জনসভায় যোগ দিয়েছেন, যা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।