## নোবিপ্রবিতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উত্তাল প্রতিবাদ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিভিন্ন প্রকল্পে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদে ছাত্ররাজনীতির নামে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিরোধ ধ্বনিত হয়েছে।
রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘চাঁদাবাজদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও, চাঁদাবাজদের আস্তানা’, ‘লীগ গেছে যে পথে, চাঁদাবাজ যাবে সে পথে’, ‘চাঁন্দাশক্তি চাঁন্দাবল, আমরা ছাত্রদল’, এবং ‘ছি ছি লজ্জা, লজ্জা লজ্জা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী সৌরভ বলেন, “আমরা আজ এখানে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছি। আমরা চাই না জুলাই মাসের পর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাঁদাবাজদের আখড়ায় পরিণত হোক। এই ১০১ একর ক্যাম্পাসে আমরা কোনো চাঁদাবাজকে দেখতে চাই না। যেখানেই চাঁদাবাজি হবে, সেখানেই আমরা রুখে দেব। শিক্ষাঙ্গন পাঠদানের জায়গা, এটি চাঁদাবাজির জায়গা নয়।”
হতাশা ব্যক্ত করে ওশানোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, “৫ই আগস্টের পর আমরা ভেবেছিলাম ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এখন দেখছি একশ্রেণীর চাঁদাবাজের আবির্ভাব হয়েছে। তাদের পদচারণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর মুখরিত থাকে বলে শুনেছি। আমি দপ্তরের কর্মকর্তাদের বলতে চাই, কেউ চাঁদাবাজির জন্য আপনাদের কাছে গেলে, জুতো দিয়ে তাদের মারধর করুন। এরপর বেঁধে রাখুন। পরবর্তীতে আমরা শিক্ষার্থীরা আপনাদের পাশে থেকে প্রশাসনের কাছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাব।”
শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মুজতবা ফয়সাল নাঈম বলেন, “তারা ধরে নিয়েছে ১২ তারিখের পর তাদের মূল সংগঠন ক্ষমতায় আসলে পূর্বের ফ্যাসিবাদী অবস্থায় ফিরে যাবে। আমরা যখন মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন খবর আসে মিরসরাইয়ে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে এক সপ্তম শ্রেণির ছাত্রকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। সারাদেশে তারা নারীদের হয়রানি, সম্ভ্রমহানি থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল এর ব্যতিক্রম হবে। কিন্তু তারাও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিয়েছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা হুঁশিয়ারি দিতে চাই, ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর হতে দেওয়া হবে না।”
রিপোর্টারের নাম 




















